সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির অন্যতম আকর্ষণ শেখ জায়েদ মসজিদ। এ মসজিদটি বিশ্বের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। জাঁকজমকপূর্ণ এই মসজিদটি তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। প্রায় ৫৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং ১২ বছর সময় লাগে এর কাজ শেষ করতে। বর্তমান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এই মসজিদটির আয়তন ২২ হাজার ৪১২ বর্গমিটার। একসঙ্গে এই মসজিদে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। এছাড়াও বৃহত্তম হাতে বোনা কার্পেট, বৃহত্তম ঝাড়বাতি এবং বৃহত্তম গম্বুজের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে রয়েছে এই মসজিদের নামে। শেখ জায়েদ মসজিদের সৌন্দর্য দেখে যে কারও মুগ্ধ হতে হবে, এটি নিশ্চিত।
শেখ জায়েদ মসজিদের দেয়াল তৈরি হয়েছে ধবধবে সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে। চমৎকার এই মার্বেল নিয়ে আসা হয়েছে ম্যাসিডোনিয়া থেকে। সাদা রং পবিত্রতা ও শুদ্ধতার প্রতীক। শুদ্ধতার আমেজ ছড়িয়ে দিতেই মসজিদটিকে সাদা রঙে সজ্জিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শেখ জায়েদ। সাদা রঙের চমকে মসজিদের সৌন্দর্য যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। পুরো মসজিদের সাদা দেয়ালের মধ্যে ফুলের আকারে সাজানো আছে রঙিন পাথর। মসজিদে প্রবেশের শুরু থেকে প্রধান নামাজ ঘর পর্যন্ত দেয়াল জুড়ে ফুলের অসাধারণ কারুকাজ দেখা যায়। বিভিন্ন রং দিয়ে সাজানো হয়েছে দেয়ালের প্রতিটি ফুল।
মসজিদের বাইরের দেয়াল জুড়ে শিল্প ও নান্দনিকতার যে চমক রয়েছে, তার চেয়েও ঢের চমক রয়েছে মসজিদের ভেতরের অংশে। মসজিদের ভেতরের অংশ যেন নিজেই একটি শিল্প। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় করা হয়েছে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাজ। মসজিদের মেঝেতে সাজানো আছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কার্পেট। বলা হয়, এই কার্পেটটিই বিশ্বের সর্ববৃহৎ কার্পেট। কার্পেটের নকশা করেছিলেন ইরানি নকশাকার আল খালিকি। আল খালিকির আগের প্রজন্মও কর্মরত ছিলেন কার্পেট নকশার পেশায়। তিনি তৃতীয় প্রজন্মের নকশাকার। বৃহৎ এই কার্পেটের আয়তন ৫৬২৭ ঘন মিটার। কার্পেটের নকশায় কাজ করেছিলেন ১২০০ তাঁতি এবং ২০ জন টেকনিশিয়ান। দারুণ নকশায় সজ্জিত এই কার্পেটের ওজন ৪৭ টন। যার মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৫ টন উল এবং ১২ টন কটন।
পুরো মসজিদে মোট সাতটি ক্রিস্টালের তৈরি ঝাড়বাতি রয়েছে। এই ঝাড়বাতিগুলোর প্রতিটির ওজন ৮ টন। প্রতিটি ঝাড়বাতিতে আছে ক্রিস্টাল দিয়ে মুগ্ধ করার মতো সূক্ষ্ম কাজ। ঝাড়বাতিগুলো নিয়ে আসা হয়েছে জার্মানি থেকে। এত সুন্দর আর বৃহৎ ঝাড়বাতি বিশ্বের অন্য কোনো স্থাপনায় নেই। মসজিদের প্রধান নামাজ ঘরের পুরো দেয়াল আর সিলিং জুড়েও মার্বেলের কাজ করা হয়েছে। মক্কামুখী দেয়াল যেখানে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, সেই জায়গায় আরবিতে আল্লাহর ৯৯ নাম লেখা আছে। ভক্তি আর শ্রদ্ধার অনন্য নিদর্শন লিখিত এই নামগুলো। নামের নকশাগুলোতে এক ধরনের আলো ব্যবহার করা হয়েছে যা দেখলে মনে হয় প্রতিটি নকশার লাইনের সঙ্গে আলো জ্বালানো আছে। পুরো মসজিদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা ধরনের কারুকার্য খচিত নকশা করা হয়েছে।