কোরবানির ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের প্রথম স্ত্রী ও নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকী বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেছেন। গতকাল রবিবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে তার আবেদনের পর বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ বিষয়ে ২৭ জুলাই শুনানির তারিখ রেখেছেন। আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এই আবেদন করেন লায়লা কানিজ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৪ জুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মতিউর রহমান, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ ও ছেলে আহম্মেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে একই আদালত। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের প্রধান মো. আনোয়ার হোসেন ২৪ জুন আদালতে করা এ-সংক্রান্ত আবেদনে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ হুন্ডি এবং আন্ডারইনভয়েসিং/ওভারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশত্যাগ করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার এবং পরিবারের সদস্যরা যাতে বিদেশ যেতে না পারেন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আদেশ চান।
এবার পবিত্র ঈদুল আজহার সময় মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মুশফিকুর রহমান ১৫ লাখ টাকার ছাগল কিনতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ছেলের বিলাসী জীবনযাপনের সূত্র ধরে মতিউরের সম্পদের বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একের পর এক সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসছে। দুই স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোনসহ স্বজনদের নামে ছয় জেলায় জমি, ফ্ল্যাট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রিসোর্টসহ নানা সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। এর বাইরে পুঁজিবাজারেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। আলোচিত এই কর্মকর্তা ও তার স্বজনদের নামে থাকা এখন পর্যন্ত ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে। তার নামে প্রায় ২৮ বিঘা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে; এর মধ্যে ঢাকার মিরপুরে একটি ভবনেই রয়েছে চারটি ফ্ল্যাট।