সুখের কারখানায় স্বেচ্ছাবন্দি মা-বাবা

ছোট কতগুলো কক্ষ। এসব কক্ষের সঙ্গে বাইরের জগতের যোগাযোগের একমাত্র উপায় দরজায় খাবার দেওয়ার একটি ছিদ্র। এসব কক্ষের ভেতরে ফোন বা ল্যাপটপ রাখার অনুমতি নেই। এসব কক্ষ আয়তনে দোকানের আলমারির চেয়ে বেশি বড় নয়। এখানে যারা থাকেন, তাদের সঙ্গী বলতে খালি দেয়াল ছাড়া আর কিছুই নেই। কক্ষের বাসিন্দারা কয়েদিদের মতো নীল রঙের পোশাক পরিধান করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার এসব কক্ষকে বলা হচ্ছে ‘সুখের কারখানা বা হ্যাপিনেস ফ্যাক্টরি’।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, এসব কেন্দ্রে আসা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য, ‘একাকিত্বের অভিজ্ঞতা’ লাভ করা। কারণ এখানে আসা অধিকাংশ মানুষের অন্তত এমন একজন সন্তান আছে, যে সব ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। তাই বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অনুভূতি কেমন হয়, তা শিখতে অভিভাবকরা এখানে আসেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য ও কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত বছর ১৯ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ১৫ হাজার তরুণ ও যুবকদের ওপর একটি জরিপ চালায়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫ শতাংশের বেশি নিজেদের সমাজ থেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। দেশটির মোট জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নিলে,  সেখানে গুটিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার। এ অবস্থায় গত এপ্রিল থেকে দেশটির সমাজবিচ্ছিন্ন সন্তানদের মা-বাবারা একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ১৩ সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে কোরিয়া ইয়ুথ ফাউন্ডেশন ও ব্লু হোয়েল রিকভারি সেন্টার নামের দুটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)।

বিবিসি বলছে, সমাজ থেকে গুটিয়ে নেওয়া সন্তানদের সঙ্গে কীভাবে আরও ভালোভাবে যোগাযোগ করা যাবে, তা শেখানোই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওন প্রদেশের হংচেয়ন-গান অঞ্চলের একটি কেন্দ্রে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের তিন দিন একটি কক্ষে রাখা হয়। এটি নির্জন কক্ষের আদলেই তৈরি করা হয়েছে। এই নির্জনবাস নিজেদের সন্তানদের গভীরভাবে বুঝতে মা-বাবাদের সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তরুণদের নিজেদের সমাজ থেকে গুটিয়ে নেওয়ার পেছনে নানা ধরনের কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য ও কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে।