স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর ভারতজুড়ে কার্যকর হলো নতুন তিন ফৌজদারি আইন। বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই ভারতে ব্রিটিশ আমলের তৈরি আইন পুরোপুরি মুছে ফেলে সোমবার থেকে চালু করা হয় নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন।
নতুন আইনে ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার এবং নারী ও শিশু সুরক্ষা, ন্যায়বিচার লাভ এবং সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের দাবি।
এর ফলে ভারতীয় আইনব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি মুছে যাবে ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া নিয়মগুলো। খবর এনডিটিভির
১৮৬০ সালে তৈরি ইন্ডিয়ান পেনাল কোড বা ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে হয়েছে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’। ১৮৯৮ সালের ক্রিমিনাল প্রসিডিওর অ্যাক্ট বা ফৌজদারি দণ্ডবিধির নতুন রূপ ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ এবং ১৮৭২ সালের ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট বা ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের বদলে কার্যকর হচ্ছে ‘ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম’।
জানা গেছে, ন্যায় সংহিতায় নতুন ২০টি অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে। বাদ পড়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে থাকা ১৯টি বিধান। এছাড়া ৩৩টি অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আর ৮৩টি অপরাধের জন্য জরিমানার পরিমাণও আগের তুলনায় বেড়েছে।
জানা গেছে, পরিবেশ দূষণ ও মানব পাচারের মতো অপরাধকে ন্যায় সংহিতায় সাজার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া সাইবার অপরাধ এবং আর্থিক প্রতারণার মতো নতুন অপরাধও যুক্ত হয়েছে ন্যায় সংহিতায়।
নতুন আইনে নারী সুরক্ষা এবং নারীদের সঙ্গে ঘটা বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে বিধি আরও কঠোর করা হয়েছে। ১৮ বছরের কমবয়সি বা নাবালিকা ধর্ষণে সাজা মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড এবং গণধর্ষণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
নতুন আইন চালু হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে ইন্ডিয়ান পেনাল কোড, ১৮৬০। বাতিল হয়েছে ফোরটোয়েন্টি বা চারশ বিশ (৪২০) ধারা। দেড়শ বছরেরও বেশি প্রাচীন ব্রিটিশ জমানার ভারতীয় দণ্ডবিধির দিন শেষ দেশটিতে।
বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও গতকাল থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হয় নতুন আইনগুলো।
তবে বিরোধীরা মনে করছে, পুলিশ ও শাসক গোষ্ঠীর হাতে এ আইন আরও লাগামহীন ক্ষমতা তুলে দেবে। ভবিষ্যতে এসবের অপব্যবহার হবে। এ ছাড়া দেখা দেবে অভূতপূর্ব আইনি জটিলতা। গত বছর পাস হয়েছিল আইনটি।