ভারতে নাগা-কুকি সংঘর্ষে ৩ সেনা নিহত

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩২ এএম

ভারতের নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরে পরিস্থিতি ক্রমশ নাজুক হয়ে উঠছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অন্তত দুটি রাজ্যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কুকি-জো সম্প্রদায় ও নাগাদের মধ্যে সংঘাত বাড়ছে। এছাড়া বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। দুপক্ষের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি আক্রমণ হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান নিরাপত্তা বাহিনী আসাম রাইফেলসের ওপর। গত সাত দিনে দুটি আক্রমণে আসাম রাইফেলসের অন্তত তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দুই সম্প্রদায়ের সংঘাতের জেরেই নিরাপত্তারক্ষীদের মৃত্যু হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, সর্বশেষ আক্রমণের ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে। মণিপুরের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, উত্তর মণিপুরের সেনাপতি শহরে সশস্ত্র উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানে বাধা দেওয়া হয়েছে।

আসাম রাইফেলস যাতে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে না পারে, সেই লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি শিবিরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হামলা চালিয়েছে ‘মব’ বা উত্তেজিত জনতা। তারা আসাম রাইফেলসের ক্যাম্পে পাথর ছোড়ে, ভাঙচুর করে ও আগুন দেয়।উত্তেজিত জনতা সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং অন্তত দুটি ট্রাক উল্টে দেয়।

আক্রান্ত হন স্থানীয় বাসিন্দারাও। আসাম রাইফেলস, ভারতের সেনাবাহিনী এবং রাজ্য প্রশাসন বিষয়টিকে ‘রাষ্ট্রের ওপর হামলা’ হিসেবে দেখছে।সেনাপতি জেলায় ​নাগা সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠী লিয়াংমাই নাগাদের গ্রাম ওক্লং।

আসামের প্রধান বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল সোসালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-আইজাক-মুইভার (এনএসসিএন-আইএম) সংগঠন ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।

স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে এনএসসিএন-আইএমের ক্যাম্পের কাছে তাদের সশস্ত্র ক্যাডারদের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আসে। আসাম রাইফেলস সেখানে তল্লাশি অভিযান চালানোর চেষ্টা করে। আসাম রাইফেলসের দলটি ওক্লং গ্রামের দিকে এগোনোর সময় নারীসহ বহু মানুষ তাদের আটকায়।

অবশ্য তাঁদের কেউ সশস্ত্র ছিলেন না। এ কারণে আসাম রাইফেলস গুলি চালায়নি। আসাম রাইফেলস তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলেও উত্তেজিত জনতা বড় ধরনের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা আগে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নাগাল্যান্ডে প্রাণ হারান আসাম রাইফেলসের এক সেনাসদস্য। গত সোমবার দুপুরের নাগাদ নাগাল্যান্ডের পশ্চিম অংশে চুমৌকেডিমা ‘এ’ জেলায় আসাম রাইফেলসের প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছে সন্দেহভাজন এক বিস্ফোরণে আসাম রাইফেলসের অন্তত এক সদস্য নিহত হন। একজন বেসামরিক নাগরিকসহ আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ সূত্রের খবর, আসাম রাইফেলসের কর্মীরা একটি খোলা গাড়িতে করে রাজধানী ডিমাপুরের দিকে যাওয়ার পথে বেলা দুইটা নাগাদ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশার ভেতরে বিস্ফোরক রাখা ছিল, যা দূর নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগের। কারণ, এটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের নাশকতা বলে মনে করা হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় নাগাল্যান্ডে দেখা যায়নি। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে কেবল দুমড়ানো ধাতব অংশ ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে, যা বিস্ফোরণের ভয়াবহতার ইঙ্গিত।

মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও, রাজ্যপাল নন্দকিশোর যাদব এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা নাগাল্যান্ডের নাগরিক সংগঠন ‘নাগাল্যান্ড পিস সেন্টার’ এই হামলার নিন্দা করেছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত