দরুদ পাঠ রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। মুমিনের প্রতিদিনের পঠিত আমলসমূহের মধ্যে দরুদ পাঠ আল্লাহর নিকট একটি পছন্দনীয় আমল। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় কেয়ামতের দিন ওই ব্যক্তিই আমার সর্বাধিক নিকটবর্তী হবে, যে আমার ওপর সর্বাধিক দুরুদ পাঠ করবে।’ (সহিহ মুসলিম ৩৮৪)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তার ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দোয়া করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব ৫৬)
ফজিলতপূর্ণ এ আমলটি অন্যান্য আমলের ন্যায় নির্দিষ্ট কোনো সময় বা জায়গার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বরং যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায় তা করা যায়। তবে হাদিস থেকে বিশেষ কিছু সময় দরুদ পাঠের নির্দেশনা পাওয়া যায়।
দ্বীনি মজলিসে দরুদ পাঠ : যে কোনো ইসলামি মজলিসে রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ জরুরি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে সমস্ত লোক কোনো মজলিসে বসেছে অথচ তারা আল্লাহর জিকির করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরুদও পাঠ করেনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহতায়ালা চাইলে তাদের শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন।’ (তিরমিজি ৩৩৮০)
জুমার দিন দরুদ পাঠ : হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন ও জুমার রাতে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করেন।’ (আবু দাউদ ১২০৯)
আজানের পর দরুদ পাঠ : বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শোনো, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বলো। অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো। (সহিহ মুসলিম ৭৩৫)
মোনাজাতের আগে দরুদ পাঠ : ফাজালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক লোককে রাসুল (সা.) তার নামাজের মধ্যে দোয়া করতে শুনলেন। কিন্তু রাসুল (সা.)-এর ওপর সে দরুদ পড়েনি। রাসুল (সা.) বলেন, এই ব্যক্তিটি তাড়াহুড়া করেছে। তারপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাকে বা অন্য কাউকে বললেন, তোমাদের কেউ নামাজ আদায় করলে সে যেন মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তার গুণগান করে। তারপর তার রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে, তারপর তার মনের কামনা অনুযায়ী দোয়া করে। (তিরমিজি ৩৪৭৭)
মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় : হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন আমার ওপর দরুদ পাঠ করে।’ (সহিহ মুসলিম)