মাগুরায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা

মাগুরায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম তীর্থ রুদ্র (২২)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দরি মাগুরা আল আমিন এতিমখানা এলাকায় পুকুরপাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রুদ্র শহরের পুরাতন বাজার ব্যবসায়ী নিমাই রুদ্রের ছেলে। সে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ থেকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল।

রুদ্রের বাবা নিমাই রুদ্র বলেন, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে সে মোটরসাইকেল নিয়ে শহরের পুরাতন বাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। রাত ১টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তিনি মাগুরা সদর থানায় বিষয়টি জানালে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে সময় তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার হওয়ার পর তারা তীর্থের মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিমাই রুদ্র আরও বলেন, রাত সাড়ে ১০টা থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। আমান নামের তীর্থের এক বন্ধুর কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন রাত ৮টার পরপরই তিন যুবক শহরের জমজম মার্কেট এলাকা থেকে তীর্থকে নিয়ে যায়। তিনজনের মধ্যে তীর্থের মোটরসাইকেলে একজন অপর দুজন অন্য একটি মোটরসাইকেলে ছিল। অতীতে দুএকজনের সঙ্গে তীর্থের বিরোধ হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি মীমাংসা করা হয়েছে। এ কারণে কোন বিরোধ সূত্রে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হলো সেটি বুঝতে পারছেন না পরিবার।

তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে, তীর্থ যেখানে খুন হয়েছে ওই এলাকাটি মাদকের স্পট হিসেবে চিহ্নিত। এখন সে ওইখানে কীভাবে এলো এবং কীভাবে খুন হয়েছে বোঝা যাচ্ছে না। তবে এর সঙ্গে মাদকের কোনো যোগসূত্র থাকলেও থাকতে পারে।

মাগুরা সদর থানার ওসি মেহেদী রাসেল জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজনের খবরে দরি মাগুরা আল আমিন ট্রাস্টের মাদ্রাসা সংলগ্ন পুকুরপাড় থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত তীর্থের পরিবারের লোকজন থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করে। নিহতের গলায় এবং মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকা-ের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। লাশের ময়নাতদন্তের পর সঠিক কারণ জানা যাবে। হত্যাকা-ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে।