সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ শয্যাবিশিষ্ট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করতে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেয় করোনা মহামারীতে প্রাণ হারানো মেধাবী শিক্ষার্থী সাবরিনা কামাল তন্বীর পরিবার। সেই ৫০ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করলেও হাসপাতালে এখনো চালু হয়নি কোনো আইসিইউ।
এই অনুদানের পুরো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় তেজগাঁও কার্যালয়ে ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আলাদা দুটি অভিযোগ দিয়েছেন তন্বীর মা ও ঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাসরিন বেগম।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ৩টায় দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগের চিঠি দেন অধ্যাপক নাসরিন বেগম। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে দেওয়া হয়।
অভিযোগে অধ্যাপক নাসরিন বেগম বলেন, ‘আমার বড় কন্যা সাবরিনা কামাল তন্বী উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল। ২০২০ সালের ১৯ মে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। যে টাকা দিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করাতাম, সেই টাকায় গরিব মানুষের চিকিৎসা করা হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তিপাবে। সেই ভাবনা থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করি। তারা বলেন, সাভার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ নেই, সেখানে আইসিইউ প্রতিষ্ঠা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মানবতার ফেরিওয়ালা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাতে সংবাদ সম্মেলনে দুটি চেকের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা আইসিইউ অনুদান হিসেবে প্রদান করি। অর্থ হস্তান্তর সভায় প্রধান আলোচক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অর্থ দাতা হিসেবে আমি বক্তব্য রাখি।’
অধ্যাপক নাসরিন বেগম লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘আমি টাকা প্রদানের পর থেকে বহুবার আইসিইউ স্থাপন ও কাজের অগ্রগতির বিষয়ে ফোন করে জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ও গণস্বস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান ডা. মনজুর কাদির আহমেদ সময়ক্ষেপণ ও টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে আমি ৬ মাস পর আগস্ট মাসে ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কাজের ধীরগতির কারণ জানতে চাই। তিনি তাৎক্ষণিক এক মাসের মধ্যে আইসিইউ স্থাপন ও উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণের জন্য মুহিব উল্লাহ খোন্দকারকে কড়া নির্দেশ দেন। আমি গণস্বাস্থ্য ধানমন্ডি অফিস থেকে চলে আসার ৫ মিনিট পর ডা. মনজুর কাদির ফোনে আমাকে রূঢ় ভাষায় জিজ্ঞেস করেন, আমি কেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে আইসিইউ নিয়ে বিচার দিলাম। উত্তরে আমি বলি, আপনি জাফরুল্লাহ ভাইকে জিজ্ঞেস করেন। তার দুই মাস পর “সাবরিনা কামাল তন্বী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র” আইসিইউ উদ্বোধন হয়।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ। এ বিষয়ে অধ্যাপক নাসরিন বেগম অভিযোগ করেন, ডা. জাফরুল্লাহ কেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেই এমন প্রশ্নের জবাবে আমাকে ডা. মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘জাফর ভাই অসুস্থ, তাই আসেন নাই। অথচ সেদিন রাতে টেলিভিশন ও পত্রিকার নিউজে দেখতে পেলাম ওই সময়ে তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখছেন। আমি মনে করি, আইসিইউর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে অনুপস্থিত রাখার অন্যতম কারণ দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়া।’
অভিযোগে অধাপক নাসরিন বেগম বলেন, ‘এ কেন্দ্রটি স্থাপনে অতিরিক্ত যে অর্থ প্রয়োজন হবে তা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রদান করবে; যা চুক্তিনামায় ছিল। অথচ তারা সেই অর্থ তো দেয়ইনি, উল্টো সাভারে থাকা ডায়ালাইসিসের বেড ও ঢাকা নগর হাসপাতাল আইসিইউ থেকে ৩টি কার্ডিয়াক মনিটর এনে এবং ডায়ালাইসিসের রোগীদের আইসিইউ সিটে রেখে কোনো রকমে উদ্বোধন নাটক করেন।’