ঘুষ ছাড়া কোনো দলিলই রেজিস্ট্রি করেন না বলে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা দলিল লেখক সমিতির ভাষ্য, গত মে মাসে সীতাকুন্ডে যোগদানের পর থেকেই রায়হান হাবীব অবাধে ঘুষবাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। তিনি তার কার্যালয়ের ঝাড়ুদার ইয়াকুবের মাধ্যমে ঘুষের লেনদেন করেন।
সম্প্রতি সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীবের বিরুদ্ধে নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে সীতাকু- উপজেলা দলিল লেখক সমিতি। এতে রায়হান হাবীবকে বদলির আবেদনও জানানো হয়েছে।
দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া কোনো দলিলই রেজিস্ট্রি করেন না সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। গত মে মাসে তিনি এই অফিসে যোগদানের পর আগে থেকে ঘুষের চুক্তি না করে রেজিস্ট্রি করতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দলিল লেখক ও জমি হস্তান্তর করতে আসা সাধারণ মানুষ। দলিলে কোনো সমস্যা না থাকলেও কোনো না কোনো খুঁত বের করে দলিল ফেরত দেন রায়হান হাবীব। ঘুষের চুক্তি ছাড়া যেসব দলিল লেখক রেজিস্ট্রির জন্য দলিল উপস্থাপন করেন, তাদের এবং দলিল দাতা-গ্রহীতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার করেন তিনি। তখন আর কোনো উপায় না পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই দলিল রেজিস্ট্রির জন্য গ্রাহক ও দলিল লেখকের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। তখন তিনি অফিসের ঝাড়ুদার মো. ইয়াকুবের সঙ্গে বাইরে গিয়ে কথা বলতে বলেন। সাব রেজিস্ট্রারের ইশারায় দলিলের মূল্য অনুযায়ী, ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ চান ইয়াকুব। দরদাম চূড়ান্ত হলে সাব-রেজিস্ট্রারকে গ্রিন সিগন্যাল দেন ইয়াকুব। তখন আর কিছু যাচাই-বাছাই না করেই দলিল সম্পাদন করে দেন রায়হান হাবীব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন দলিল লেখক বলেন, এমন কোনো দলিল নেই যাতে সাব-রেজিস্ট্রার ঘুষ নেন না। তারা সব দলিলেই অনেকটা অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তি টাকা দিয়ে আসছেন; অর্থাৎ একটি দলিলের জমির মূল্য যদি ১ কোটি টাকা হয় অফিস খরচ দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা। সরকারি ফির বাইরে এটা সম্পূর্ণ বাড়তি টাকা। এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। সেটা তারা আগে থেকে দিয়ে আসছেন, তাই এটা নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। কারণ এটা অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে।
তারা আরও বলেন, এই নতুন সাব-রেজিস্ট্রার আসার পর যেকোনো ঠুনকো অজুহাতে দলিল ফেরত দিচ্ছেন এবং ঘুষের চুক্তি ছাড়া যারা দলিল নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছেন। তবে ঝাড়ুদার ইয়াকুবের সঙ্গে ঘুষের দরদাম চূড়ান্ত হলে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই দলিল সম্পাদন করে দিচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে তারা দুই দফায় গত ৬ ও ৯ জুন সাব রেজিস্ট্রারের অফিসে বৈঠক করেন। দুই দফা বৈঠকে তাকে এ ব্যাপারে অনেক অনুরোধ করেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি তাদের উল্টো ধমকিয়ে বলেন, ‘আমি বিসিএস ক্যাডার। এ ছাড়া ৯০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আমি এখানে এসেছি। আমার ওপরে থাকা আরও আটজনকে ডিঙিয়ে আমি এই চেয়ারে বসেছি। আমার ক্ষমতা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা থাকা উচিত।’
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। তিনি বলেন, ‘আগে হয়তো ভিন্ন নিয়মে দলিল রেজিস্ট্রি হতো। এখন এনবিআর আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মে দলিল রেজিস্ট্রির নির্দেশনা দিয়েছে। তাই হয়তো দলিল লেখকদের সঙ্গে আমাদের কিছু ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া ঘুষ গ্রহণ কিংবা ঘুষ প্রদান করে সীতাকুন্ডে আসা এসব অপপ্রচার। আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে এসব বদনাম ছড়াচ্ছে।’
এ বিষয়ে অফিসের ঝাড়ুদার মো. ইয়াকুব বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি চাকরি ছেড়ে দেব।’