দুই দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ নিয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে আন্দোলনকারী এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ওই সভায় সারা দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে একজন করে কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আরইবি নোটিস দিয়েছে। এর আগে ৩০ জুন আরইবি এক নোটিসে সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আহ্বান করলে তা প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগের আহ্বানে সিনিয়র সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা জানান আন্দোলনকারীরা।
এরপর গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভার আহ্বান জানিয়ে একটি নোটিস দিলেও আরইবি তাদের আগের নোটিস প্রত্যাহার করে।
আন্দোলনকারীদের একজন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা এখন বৈঠকে অংশ নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’
আরইবি ও এর অধীন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিগুলো একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সব চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিত করার দাবিতে ১ জুলাই থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪০ হাজার কর্মী।
অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রাহকরা। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি বিদ্যুৎসেবা চালু রেখেই কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে সহকারী মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস জানান, আরইবির স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা, দুর্নীতি এবং সমিতির কর্মীদের ওপর শোষণ, নিপীড়নের কারণে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নানা বৈষম্য এবং দমন-নিপীড়নের কারণে সমিতির কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় গত ৫ মে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এবং মন্ত্রণালয় ও আরইবির কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গত ১০ মে বৈঠক করেন। ওই সভায় আরইবির প্রতি সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আস্থা না থাকার কথা বলা হয়।
রাজন কুমার আরও জানান, সেদিনের আলোচনার একপর্যায়ে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে দুই শর্তে কর্মবিরতি স্থগিত করেন তারা। শর্ত দুটি হলো এই ইস্যুতে বরখাস্ত, সংযুক্ত, স্ট্যান্ড রিলিজকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতি দিয়ে স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা এবং ১৫ দিনের মধ্যে দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে নিজেদের ন্যায্য দাবি দাওয়া উল্লেখ করে দেশের ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ৩৭ হাজার ৫৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি বিদ্যুৎ বিভাগসহ আরইবিতে জমা দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ২ মাস পার হলেও প্রস্তাবনার আলোকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাময়িক বরখাস্ত দুজন এবং স্ট্যান্ড রিলিজ থাকা দুজন কর্মকর্তাকে এখনো পর্যন্ত অব্যাহতি দিয়ে নিজ কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীরা একাধিকবার আরইবির চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হলেও তিনি দেখা করেননি বা কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং এই ইস্যুতে প্রতিটি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা হয়রানির উদ্দেশ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামগ্রিক বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় সমিতির কর্মীরা আবারও কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মূল প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী কর্মকর্তা, চাকরির যোগ্যতা এক হওয়া সত্ত্বেও আরইবির সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। আরইবির কিছু কর্মকর্তা নিজেদের সুবিধার জন্য বছরের পর বছর ধরে এই বৈষম্য জিইয়ে রেখেছেন। নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আরইবিকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমিতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকা আরইবি কোনো সমাধান না করে উল্টো দমন, নিপীড়ন, শোষণের অংশ হিসেবে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে।