ফেসিয়ালের বিকল্প নেই

ত্বকের যত্নে ফেসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ। বয়সের ছাপ রোধ করতেও ফেসিয়াল কার্যকর। তবে ফেসিয়াল শুধু করলেই হলো না কেন করবেন আর করার পর কী করা উচিত বিস্তারিত জানা জরুরি। জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা

করণীয়

সতেজতা: ফেসিয়ালের সুফল ধরে রাখতে ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ কিছুক্ষণ পরপরই পানি পান করতে হবে। এর ফলে ত্বক পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পাবে, বেরিয়ে যাবে দূষিত পদার্থ টক্সিন। ত্বকের উজ্জ্বলতা আর কোমল ভাব বজায় থাকবে।

স্ক্রাব : সপ্তাহে একদিন স্ক্রাবিং করতে পারেন ফেসিয়াল-পরবর্তী ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে। ঘরে বসেই সপ্তাহে একদিন স্কাবিং করলে ত্বকের মরা চামড়া দূর হবে। লোমকূপগুলো পরিষ্কার থাকবে। ত্বক নিস্তেজ হবে না। তবে তা করতে হবে ফেসিয়ালের তিন-চার দিন পর। যে স্ক্রাব ব্যবহার করবেন, তার দানা যেন মিহি হয়।

ভিটামিন সি সেরাম : ফেসিয়াল করার পর ত্বক অনেক নাজুক থাকে। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হতে পারে প্রচন্ড তাপ আর বায়ুদূষণের কারণে। বলিরেখার এবং ত্বক কুঁচকে যায়। তাই ফেসিয়ালের পর ভিটামিন সি সেরাম ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বকের রুক্ষতা দূর করে এবং কোলাজেন বাড়িয়ে ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।

পরিচর্যা প্রতিদিন : ফেসিয়ালের সুফল ত্বকে বজায় রাখতে অবিলম্বে তৈরি করে নিতে হবে একটি স্কিনকেয়ার রুটিন। পরবর্তী ফেসিয়াল পর্যন্ত নিজ ত্বকের ধরন অনুযায়ী ঠিক করে নিতে হবে কী কী ব্যবহার করবেন। পদ্ধতিও নির্ধারণ করা চাই। সেই রুটিন মেনে চললেই  পেতে পারেন সদ্য ফেসিয়াল করা মুখের মতোই উজ্জ্বলতা।

পরবর্তী ফেসিয়াল : মাসে একবার ফেসিয়াল ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এতে ত্বকের স্বাভাবিক পরিবর্তনের চক্র ও প্রভাব বজায় থাকবে। মাসে একবার যাদের ফেসিয়াল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, তারা কমপক্ষে তিন মাসে একবার ফেসিয়াল করার অভ্যাস করতে পারেন। নয়তো ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা স্থায়ীভাবে তৈরি হবে।

ফেসিয়ালের পর যা করবেন না

স্টিম কিংবা জিম : ফেসিয়ালের জন্য ত্বকে পরিমিত স্টিম ব্যবহার করা হয়ে গেছে। এই বাড়তি স্টিম নিলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। একইভাবে ফেসিয়ালের পরপরই জিমে গেলে গরম কিংবা ঘাম সদ্য ত্বকে স্ক্রাব করলে র‌্যাশ কিংবা লালচে ভাব তৈরি করতে পারে।

ওয়্যাক্স শেভ কিংবা রিমুভাল

অনেক সময় একই সঙ্গে সব সৌন্দর্যসেবা নিতে গিয়ে ফেসিয়ালের পাশাপাশি আমরা ওয়্যাক্সি কিংবা লেজার হেয়ার রিমুভ করতে পারেন। এতে সমস্যা হতে পারে। সব ফেসিয়ালেই স্ক্রাবিং করা হয়, যাতে ত্বকের পুরনো মরা কোষ ঝরে যায় এবং ত্বকে নতুন কোষ বেরিয়ে আসে। তাই ফেসিয়ালের সঙ্গে সঙ্গে হেয়ার রিমুভাল বেছে নিলে ত্বকে অতিরিক্ত স্ক্রাবিংয়ের কারণে উজ্জ্বলতা নষ্ট হতে পারে। তিন দিন পর যে কোনো হেয়ার রিমুভাল ট্রিটমেন্টে করা উচিত।

সূর্যের তাপ: ফেসিয়ালের পর ত্বক সতেজ থাকার কারণে সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনি রশ্মি দ্রুত শুষে নেয়। ফলে মেলানোমার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ত্বক কুঁচকে যায় অল্প সময়েই। ফেসিয়ালের পর অবশ্যই এমন সানস্ক্রিন এবং ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। যাতে এসপিএফের মাত্রা কমপক্ষে ৩০ হয়।

ব্রণ খোঁটাখুঁটি : ফেসিয়ালের সময়ই ত্বকের যত ব্রণ কিংবা ব্ল্যাকহেডস রয়েছে, তা পরিষ্কার করে ফেলা হয়। যদি তা না করে ওভাবেই রেখে দেওয়া হয়, তবে বুঝতে হবে সেটা উঠিয়ে ফেলার মতো পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি। তাতে খোঁটাখুঁটি করলে শুধু ক্ষতিই হবে ত্বকের এবং দাগ স্থায়ীভাবে বসে যাবে।