পর্তুগালকে হারিয়ে এবারের ই্উরোর সেমিফাইনালে উঠে এসেছে ফ্রান্স। তবে নির্ধারিত কিংবা অতিরিক্ত কোনো সময়েই গোল করতে পারেনি দিদিয়ের দেশরে শিষ্যরা। অথচ এই দলটিরই অধিনায়ক বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন কিলিয়ান এমবাপ্পে। শুধু এই ম্যাচই নয়, এ আসরে ৫ ম্যাচ খেলে ফেলা ফ্রান্সের ৪টিতে খেলে এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত গোল করতে পেরেছেন একটি। সেটিও পেনাল্টি থেকে। আরও অবাক করা বিষয়, এটিই ইউরোতে এমবাপ্পের প্রথম গোল। ফ্রান্সও এবার প্রতিপক্ষের জালে ওই একবারই বল পাঠিয়েছে। ক্লাব কিংবা বিশ্বকাপ মাতিয়ে বেড়ানো এমবাপ্পে কি ইউরো এলেই হয়ে যান ফ্লপ।
পরিসংখ্যান এবং মাঠের নৈপুণ্য কিন্তু তাই বলছে। ২৫ বছর বয়সী এমবাপ্পে গত ২০২০ ইউরো থেকে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ সামলে আসছেন। ওই মৌসুমে তিনি ম্যাচ খেলেন ৪টি। গ্রুপ পর্বে জার্মানি ও হাঙেরির বিপক্ষে বিবর্ণ থাকার পর পর্তুগালের বিপক্ষে একটি গোলে বল যোগান দেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও পান আরেকটি অ্যাসিস্ট। কিন্তু গোলের দেখা পাননি কোনো ম্যাচে।
এবারের ইউরোতে প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নাক ভেঙে ফেলেন। তবুও মাঠে ছিলেন পুরোটা সময়। আত্মঘাতী গোলে ফ্রান্স জেতে ওই ম্যাচ। দ্বিতীয় ম্যাচে ডাচদের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামাননি দেশম। গোলশূণ্য ড্র হয় ওই ম্যাচ। পোল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইউরো ক্যারিয়ারের প্রথম গোলের দেখা পান এমবাপ্পে। শেষ ষোলোর ম্যাচেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলখরা কাটাতে পারেননি ফ্রান্স অধিনায়ক। এ যাত্রায়ও ভারটঙ্গহানের আত্মঘাতী গোলে শিঁকে ছেড়ে ফ্রান্সের। ১-০ গোলে জয়ে ওঠে কোয়ার্টারে।
গতরাতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের বিপক্ষেও ওই বিবর্ণ রূপেই ছিলেন এমবাপ্পে। এমনকি অতিরিক্ত সময়ের খেলায় তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন দেশম। এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৩৭৪ মিনিট মাঠে ছিলেন এমবাপ্পে। ২০ বার গোল করার সুযোগ পেলেও সফল হয়েছেন ওই একবারই, পেনাল্টি থেকে।
১৯৮৪ আসরে প্রথমবার ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়েছিল ফ্রান্স। ১৯৯৬ আসরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও ১৯৯৮ বিশ্বকাচ জেতা ফ্রান্স পরেরবারই ২০০০ আসরে ফের ইউরো চ্যা্ম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। এখনকার ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম ছিলেন সেই দলটির অধিনায়ক। ছিলেন জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অরিরা। ২০১৬ আসরে দেশমে কোচিংয়ে ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। কিন্তু ঘরের মাঠের আসরে রানারআপ হয়ে থেকে যেতে হয় পর্তুগালের কাছে হেরে। ২০১৮ বিশ্বকাপ ঘরে তোলার পর ইউরোর ২০২০ আসরে হট ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানোয় স্পেনই এখন দ্বিতীয় বাড়ি কিলিয়ান এমবাপ্পের। তার ক্লাব সতীর্থ জুড বেলিংহাম ঠিকই সমালোচনার জবাব বাইসাইকেল কিকে দর্শনীয় গোল করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে সেই স্পেনের বিপক্ষেই নিজের এমন দাঁতভাঙা জবাব কি দিতে পারবেন এমবাপ্পে! ইউরোয় ‘ফ্লপ’ অপবাদ ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ সেমিফাইনাল ম্যাচে তার সামনে।