কেয়ামতের দিন প্রথম যাদের বিচার হবে

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম শহীদকে বিচারের জন্য পেশ করা হবে। অতঃপর আল্লাহতায়ালা তাকে দুনিয়ার প্রদত্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে  দেবেন। আর সেও তা স্মরণ করবে। তারপর আল্লাহতায়ালা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘আমার এতসব নেয়ামতের কৃতজ্ঞতায় তুমি কী আমল করেছ?’ উত্তরে সে বলবে, ‘আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি শহীদ হয়েছি।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ উদ্দেশে লড়াই করেছ যে, লোকেরা তোমাকে বীর-বাহাদুর বলবে এবং তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী দুনিয়াতে তোমাকে তা বলা হয়েছে।’ অতঃপর তাকে উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ করা হবে।

অতঃপর এমন ব্যক্তিকে বিচারের জন্য উপস্থিত করা হবে, যে নিজে দ্বীনি এলেম অর্জন করেছেন এবং অপরকেও শিক্ষা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাকে প্রথমে দুনিয়ার নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং সেও তা স্মরণ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘এসব নেয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ তুমি কী আমল করেছ?’ উত্তরে সে বলবে, ‘আমি নিজে এলেম অর্জন করেছি এবং অপরকে শিক্ষা দান করেছি।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ। আমার সন্তুষ্টির জন্য নয়; বরং লোক তোমাকে বিদ্বান বলবে, এ জন্য তুমি দ্বীন শিক্ষা করেছ এবং শিক্ষা দিয়েছ। তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী তোমাকে বিদ্বান বলাও হয়েছে।’ অতঃপর তাকে উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হবে।

অতঃপর এমন এক ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে, যাকে আল্লাহতায়ালা বিপুল ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে আল্লাহ নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। তখন সেও সব নেয়ামতের কথা স্বীকার করবে। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে তুমি এসব নেয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ কী আমল করেছ? সে উত্তরে বলবে, ‘আমি তোমার জন্য তোমার রাস্তায় সম্পদ দান করেছি।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ। লোকে তোমাকে দানবীর বলবে এ কারণে তুমি দান করেছ এবং তোমার অভিপ্রায় অনুযায়ী তোমাকে দানবীর বলাও হয়েছে। অতঃপর তাকে উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হবে। (সহিহ মুসলিম)