সব বড় শহর সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নাগরিকদের নিরাপদ বসবাসের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বড় শহর সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো ঢাকা সিটিকে সিসিটিভির আওতায় আনার চেষ্টা করব। যেমন গুলশান, বনানীতে করা হয়েছে। বর্তমানে যেটা আছে, সেটাকে আরও বেগবান করব।’

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর বনানীতে একটি অভিজাত হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের (এলওসিসি) আয়োজনে ‘সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি প্রকল্পের চতুর্থ পর্বের উদ্বোধন এবং অন স্ট্রিট স্মার্ট পার্কিং সিস্টেম পরিচালনার উদ্বোধন উপলক্ষক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশে^র মতো আমরা যদি টেকসই নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা বলি, তাহলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য আমরা যদি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না করতে পারি, তাহলে কিন্তু এটা সম্ভব না। আধুনিক প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে। আমাদের ভালো দিকটা নিতে হবে। আমরা প্রথম চিন্তা করেছিলাম ঢাকার পরে চট্টগ্রাম যাব, চট্টগ্রামের পরে রাজশাহী যাব। এখন আমাদের সাহস হয়েছে, আমরা ঢাকা দিয়ে শুরু করি। তারপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী। সব বড় বড় শহর আমরা ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরে গত কয়েক বছরে যত বড় বড় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার বেশিরভাগেরই রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করেছে সিসিটিভির ফুটেজ।’

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারার বাসিন্দাদের নিয়ে ২০১৩ সালে গঠিত হয় এলওসিসি। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ বসবাসের জন্য সংগঠনটির উদ্যোগে ১২৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে গুলশান থানায় একটি ছোট্ট নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু। এরপর ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ অনেক বড় হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগটি বড় বড় দুর্ঘটনার রহস্য উন্মোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। হলি আর্টিসান হামলা থেকে শুরু করে সৌদি ও পাকিস্তান দূতাবাসের দুর্ঘটনায় এসব সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। এখন এই উদ্যোগকে আমরা চাইলেই শুধু গুলশান, বনানী বা বারিধারা এলাকায় নয়, সারা ঢাকাতেই ছড়িয়ে দিতে পারি। এ জন্য বিত্তবানদের আন্তরিকতা ও আর্থিক সহযোগিতাই যথেষ্ট।’

সিসিটিভি নজরদারির এই উদ্যোগ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চমৎকার ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এলওসিসির এ উদ্যোগ খুবই কার্যকর ও প্রশংসনীয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটির কয়েকটি এলাকায় এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে সেই সব এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আমরা সহজেই সেটার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের খুঁজে পাই।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা স্মার্ট কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চালু করেছি। এমন পার্কিংয়ের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৩২৫টি। যেগুলোতে পার্কিং করলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই পার্কিং পদ্ধতিটিও যেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ মডেল হিসেবে নেয়। যেটি হবে এলওসিসির মতো।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির বক্তব্য ও উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোশিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ওয়াকিল উদ্দীনসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল ও গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুল। 

বিএবি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গুলশান, বনানী ও বারিধার এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অনুষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর এই উদ্যোগে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। রূপায়ণ গ্রুপের পক্ষে এ জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুল।