ব্যবসায়ীর বিচ্ছিন্ন হাতের সন্ধানে পুলিশ

মাদারীপুরে পূর্ব  শত্রুতার জেরে বিপ্লব মৃধা (৩৮) নামের এক যুবকের ডানহাত বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ আকাশ খান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তাকে পাঠানো হয়েছে। আহত বিপ্লব মৃধা সদর উপজেলার চরখাগদি এলাকার বজলু মৃধার ছেলে। সে বসুন্ধরা কোম্পানির স্থানীয় ডিলার বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্রসহ মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য নাইম খানের বাড়ি সিয়াম খান (২১) নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটক সিয়াম খান একই এলাকার আতিয়ার খানের ছেলে। এদিকে বিচ্ছিন্ন হাতের সন্ধানে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, চরখাগদি গ্রামের বিপ্লব মৃধার সঙ্গে একই এলাকার খবির খানের ছেলে আকাশ খানের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বেশ কিছুদিন আগে আকাশ খানকে কুপিয়ে আহত করে বিপ্লব মৃধার লোকজন। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গতকাল বিপ্লবকে চরমুগরিয়া মহাবিদ্যালয়ের পাশে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আকাশ খানের লোকজন কুপিয়ে ডানহাত বিচ্ছিন্ন করে বিচ্ছিন্ন হাত নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত একটি দা ও একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আহত বিপ্লবের স্ত্রী লাবণ্য আক্তার বলেন, আকাশ খান ও তার লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর কঠিন বিচার চাই। জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিপ্লব মৃধাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই পালিয়ে গেছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। এদিকে বিচ্ছিন্ন হাত উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশ।