সাংবাদিকদের ফখরুল

কোটা আন্দোলনে বিএনপির ইন্ধন নেই, সমর্থন আছে

কোটাবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ইন্ধন নেই, সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়টা আমরা দুভাবে দেখি। দেশের মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরাতে এ ধরনের আন্দোলন সৃষ্টি করা হতে পারে। অন্যদিকে, ছাত্রদের যে দাবি, তার সঙ্গে আমরা একমত।’

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়ে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ নিজেদের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেটা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমাদের কখনোই এ ধরনের আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এটা ছাত্রদের নিজস্ব আন্দোলন। আর পেশাগত জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। আমরা এখানে ইন্ধন দিতে যাব কেন? তবে এদের আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৫০ বছর পরও ৫৬ শতাংশ আপনি কোটা দিয়ে রাখবেন, এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এখানে মেধার বিকাশ হচ্ছে না। মেধাবীদের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় নিতে পারছেন না। একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক। আপনি বলেছেন, যারা পেনশন পায় তাদের কোনো দরকার নেই। যারা বাইরে পেনশন পায় তাদের নিয়ে আসতে পারে। ঐচ্ছিক এখন কম্পালসারি করে দিয়েছেন। সরকারের আর্থিক খাতে যে দুরবস্থা তাদের টাকাপয়সা সব শেষ হয়ে গেছে বলেই এমন করছে। এখন তারা বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোয় উদ্বৃত্ত টাকাও নিয়ে নিচ্ছে। কোথাও কিছু বাকি রাখছে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সবাই দুর্নীতিবাজ। এমনকি আপনারা যারা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করছেন, বাজেট তৈরি করছেন, সব ক্ষেত্রে দেখবেন দুর্নীতির ব্যাপারটা প্রধান। এত বেশি দুর্নীতি করেছেন, ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। চতুর্দিক থেকে একটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা, আরেকটা ঋণ নিয়ে আরেকটা ঋণ শোধ করা। এভাবে চলছে। এটা কারা করে? দেখবেন যারা সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে, ঠিকমতো চালাতে পারছে না, তাদের কিন্তু এ কাজটা করতে হয়।’

রপ্তানি আয় ৬৪ বিলিয়ন বেশি দেখিয়েছে সরকার, যা মারাত্মক ভুল তথ্য বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। এর আগে দুপুরে গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মহানগর উত্তরের বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন। সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নবগঠিত মহানগর কমিটি দেশনেত্রীর চলমান আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে অত্যন্ত ভালো ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি। কারণ এই নেতৃত্বটা বিএনপির জন্য ভালো হয়েছে।’