মোদির মস্কো সফরে পশ্চিমের মাথাব্যথা

ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর জেরে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক জটিল হয়েছে। অন্যদিকে ভারত ও ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে রাশিয়া গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত সোমবার দুই দিনের সফরে তিনি মস্কোয় পৌঁছেছেন। সফরের প্রথম দিন সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন তিনি। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুই নেতা ক্রেমলিনে বৈঠক করেন। তবে এই সময়ে মোদির মস্কো সফর ঠিক ভালোভাবে নিতে পারেনি পশ্চিমারা।

গত সোমবার মস্কো সফর নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে মোদি বলেছেন, ‘আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করতে চাই। পাশাপাশি আলোচনা করতে চাই বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে চাই।’ মোদি সর্বশেষ রাশিয়া সফর করেছিলেন ২০১৯ সালে। ওই সময় তিনি ভøাদিভস্তকের পূর্বাঞ্চল সফর ও পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে এর মধ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানে মস্কো ও বেইজিংয়ের প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা গ্রুপিং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন দুই নেতা। ভারতের ছাড়মূল্যে তেল ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে অন্যতম মস্কো; বিশেষ করে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর ভারতে ছাড়মূল্যে তেল ও অস্ত্র সরবরাহ বাড়িয়েছে মস্কো। এখন ভারতের তেল আমদানির ৪০ শতাংশের বেশি হয় রাশিয়া থেকে।

তবে পশ্চিমা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্নতা ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হতে থাকা সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে মস্কোর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে প্রভাব ফেলেছে। চীনকে ঠেকানোর জন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোও কয়েক বছর ধরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে নয়াদিল্লিকে চাপও দিচ্ছে।

২০১৯ সালে মোদির রাশিয়া সফরের দুই বছর পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর কয়েক সপ্তাহ আগে নয়াদিল্লি সফর করেন পুতিন। তবে রাশিয়া চীনের আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ায় মস্কো ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মোদি ইতিমধ্যে গত সপ্তাহে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিওর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেননি। তবে এসবের মধ্যেই মোদির সফরে অন্যতম অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মোদি বরাবরই নিরপেক্ষ থেকেছেন। এখন পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা নরেন্দ্র মোদির রুশ যাত্রা নিয়ে সে অর্থে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি জানিয়েছেন, ইউক্রেন আক্রমণের বিষয়ে একজোট হয়ে রাশিয়াকে জবাবদিহি করানোর বিষয়ে তার দেশ ভারতের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখছে।

এখন এ বিষয়টা স্পষ্ট যে নরেন্দ্র মোদি ও ভøাদিমির পুতিনকে একসঙ্গে দেখে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই খুশি হবে না। কারণ ওই দুই দেশই মনে করে ইউরোপে অস্থিরতার কারণ হলো ইউক্রেনে রুশ হামলা এবং এর জন্য দায়ী পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত অর্থনীতির অধ্যাপক স্টিভ এইচ হাঙ্কে মনে করেন, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে ভারত সব দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক চায়, বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে। কারণ এটা এমন একটা দেশ, যার সঙ্গে সোভিয়েত আমল থেকেই ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে।