পচা ডিমের দুর্গন্ধময় গ্রহে হয় কাচের বৃষ্টি!

এইচডি ১৮০৭৩৩বি নামের গ্রহটির খোঁজ মিলেছিল ২০০৫ সালে। আকারে বৃহস্পতির সমান গ্যাস জায়ান্ট এক্সোপ্ল্যানেটটিতে হাইড্রোজেন সালফাইডের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এই গ্রহ নিয়ে আমাদের গবেষণা অন্য গ্রহের বায়ুমণ্ডলসংশ্লিষ্ট গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, হাইড্রোজেন সালফাইডের গন্ধ পচা ডিমের মতো দুর্গন্ধযুক্ত।

গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্য ও বুধ গ্রহের মধ্যকার দূরত্বের তুলনায় গ্রহটি নিজের কেন্দ্রীয় তারার চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ কাছে। আর কক্ষপথ প্রদক্ষিণের বেলায় এটি মাত্র পৃথিবীর দুই দিন সমান সময় নিয়ে থাকে। গ্রহটির তাপমাত্রা প্রায় ৯২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতি ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪৮ কিলোমিটার বেগে কাচওয়ালা বৃষ্টিপাত ও বায়ু প্রবাহিত হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্জন শুধু বিভিন্ন অতি গরম ভিন গ্রহ সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত বোঝাপড়াই বাড়ায় না; বরং ভিন্ন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

এদিকে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্যও দিচ্ছে গ্রহটি। গ্রহের গঠনপ্রক্রিয়ায় বিল্ডিং ব্লক হিসেবে কাজ করা সালফার কীভাবে সৌরজগতের বাইরের বিভিন্ন গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডলে প্রভাব ফেলছে, তারও দিশা মিলতে পারে এ গবেষণায়।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্পদার্থবিদ গুয়াংওয়েই ফু বলেন, ‘সেখানে যে হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অণু রয়েছে, সেটা আমরা জানতাম না। আমাদের অনুমান ছিল, এটা শুধু বৃহস্পতি গ্রহেই থাকতে পারে। তবে আমরা আসলে সৌরজগতের বাইরে একে কখনো শনাক্ত করে দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজছি না। কারণ এটা অনেক গরম। তবে, এতে হাইড্রোজেন সালফাইড পাওয়ার বিষয়টি অন্যান্য গ্রহে এই অণু খুঁজে পাওয়া ও বিভিন্ন ধরনের গ্রহ কীভাবে গঠিত হয়, সে সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনায় এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির নতুন এ গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল নেচারে। গবেষকরা কাজ শেষ করতে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য ব্যবহার করেছেন।

তারা এর আদুরে নাম দিয়েছেন হট জুপিটার। গ্রহটির অবস্থান পৃথিবী থেকে মাত্র ৬৪ আলোকবর্ষ দূরে হওয়ায় জ্যোতির্বিদরা এর কেন্দ্রীয় তারার সামনে দিয়ে চলে যাওয়ার গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন।