খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়াও ভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি দেবে বিএনপি

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির আন্দোলনের পাশাপাশি দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভারতের সঙ্গে ‘অসম’ সমঝোতা স্মারকের প্রতিবাদে কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এসব ইস্যুতে একগুচ্ছ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি কর্মসূচি জোটের মিত্রদের সঙ্গে যুগপৎভাবে পালনের সিদ্ধান্তও রয়েছে দলটির। খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের মহানগর ও জেলা সদরে তিন দিনের সমাবেশ কর্মসূচি শেষে গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক সূত্র বলছে, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে গণঅনশন, স্বেচ্ছা কারাবরণসহ কয়েকটি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে লিফলেট বিতরণ, সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আজ বুধবার দলের যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে যুগপতের মিত্রদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবে বিএনপি। তাদের মতামত নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এবং সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বিএনপি ইতিমধ্যে উভয় আন্দোলনকে ‘যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত’ আখ্যা দিয়ে তাতে সমর্থন জানিয়েছে। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ, রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ অনেকের দুর্নীতির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে সরকার, যেগুলোকে ‘অসম’ উল্লেখ করে তাতে দেশের কোনো লাভ হবে না বলে দাবি করেছে বিএনপি।

গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত ঢাকাসহ সারা দেশের মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করে। এ ইস্যুতে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থায়ী কমিটির সভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, নজিরবিহীন দুর্নীতি, দেশের ও বাইরের ব্যাংকগুলো থেকে ঢালাও ঋণ গ্রহণের ফলে ঋণ ফাঁদ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনগণের ওপর চাপ বাড়ছে। এ বিষয়গুলোকে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সমৃদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে লিফলেট বিতরণ, সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী কর্তৃক লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে, সরকার সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে ভারতের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ইস্যুতে কর্মসূচি দেওয়া হবে। দ্রুতই এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সব মিলিয়ে ৪০টির মতো রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিল। নির্বাচনের পর ১২ ও ১৩ জানুয়ারি মিত্রদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। পরে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মিত্রদের সঙ্গে ফের বৈঠক করে বিভিন্ন প্রস্তাবনা নেয় দলটি। তবে এখন পর্যন্ত যুগপৎভাবে কোনো কর্মসূচি না হওয়ায় শরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে চারদলীয় জোট গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণফোরাম (মন্টু) ও এনডিএমের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পরে ধারাবাহিকভাবে যুগপতের অন্য শরিকদেরও মতামত নেবে বিএনপি। এদিকে মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে আন্দোলন ইস্যুতে দলের যুগ্ম মহাসচিবদের মতামত নেবে বিএনপি। এর আগে গত ১৫ জুন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে ৪৫ নেতাকে পদায়নের পর যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে আন্দোলনসংক্রান্ত বেশ কিছু কর্মসূচির বিষয়ে প্রস্তাব করেন নেতারা।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মঙ্গলবার দলের যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক রয়েছে। আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে মতামত নিতেই বৈঠক ডাকা হয়েছে।’