সমালোচনাকারীর জন্য দুর্ভোগ

সমালোচনা করা সহজ কাজ। কিন্তু কাজ করা অনেক কঠিন। আমরা সমালোচনা করতে করতে এমন পর্যায়ে চলে যাই যে, বিপরীত মতের পক্ষে সামান্য শ্রদ্ধাবোধটুকু আমাদের কাছে থাকে না। হ্যাঁ, যদি এমন হয় যে, বিপরীত মতটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, যার ফলে উম্মতের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল। তবে তো কথা বলতেই হবে। কিন্তু এরপরও কথা বলতে গিয়ে যেন আমাদের শালীনতা বজায় থাকে। কথা, কাজ ও আচরণে যেন প্রকাশ পায় কল্যাণকামিতা। এ কল্যাণকামিতা গোটা উম্মতের জন্য এবং মহান আল্লাহ ও তার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য। সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই বৃদ্ধ মুসলমানকে সম্মান করা, কোরআনের ধারক-বাহক (তথা হাফেজ-আলেমদের) সম্মান করা এবং ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রতি সম্মান দেখানো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ ৪৮৪৩)

কখনো কখনো আমরা বয়োবৃদ্ধ মুরব্বি, উস্তাদতুল্য আলেম ও বড়দের নিয়ে সমালোচনা করি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, বড়দের অর্থ-সম্পদ ও সময়ের ত্যাগ বিসর্জনের মধ্য দিয়েই ইসলাম ও মুসলিমরা আজ এতদূর এগিয়ে এসেছে। আর কল্যাণের ওয়াদা রয়েছে বড়দের (পূর্ববর্তী মুরব্বিদের) সঙ্গেই। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বরকত ও কল্যাণ তোমাদের বড়দের সঙ্গে আছে।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান ৫৫৯)

প্রতি যুগেই দ্বীনের শত্রুরা আমাদের পূর্বসূরি আকাবিরদের কলঙ্কিত করার জঘন্য প্রয়াস চালিয়েছে। এখনো এমন অনেক সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র চলছে। উদ্দেশ্য দ্বীনের মৌলিক শক্তি ক্ষুন্ন করা। তাই আমাদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। আমাদের পূর্ববর্তী মনীষী আলেম ও বয়োবৃদ্ধ মুরব্বিদের সমালোচনার মাধ্যমে মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট হয়। তাই এমন কাজকর্ম ও আচরণ থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে তাদের নামে মিথ্যাচার প্রচারণা থেকে বাঁচতে হবে। আর সামনে ও পেছনে সমালোচনাকারীদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআন স্পষ্ট সতর্ক করেছে, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা (সমালোচনা) করে।’ (সুরা হুমাজাহ ০১)

অতএব এ জাতীয় সমালোচনা ও নিন্দার কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। উম্মাহর ঐক্য নষ্ট করে এমন যাবতীয় কাজ থেকে বিরত থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।