সাড়ে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির মামলায় লা মেরিডিয়ান হোটেলের মালিক আমিন আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামস জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেয়।
আমিন আহমেদ আইনজীবী মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। দুপক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদনটি খারিজ করে আদেশ দেয় আদালত।
আসামিপক্ষে এহসানুল হক সমাজীসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানি করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জামিনের বিরোধিতা করেন।
গত ৫ জুন আমিন আহমেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক নেয়ামুল হাসান গাজী। অন্য আসামিরা হলেন বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার, তার ভাই শেখ শাহরিয়ার পান্না, বাচ্চুর ছেলে শেখ রাফা হাই ও শেখ ছাবিদ হাই অনিক।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থাকাকালে ২০১২ সালের ৮ আগস্ট বেস্ট হোল্ডিংস গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিন আহমেদের সঙ্গে গুলশানের ৬ নম্বর প্লটের ৩০ দশমিক ২৫ কাঠা জমির কেনার জন্য চুক্তি করেন। জমির দাম ধরা হয় ১১০ কোটি টাকা। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর দুটি দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। এর মধ্যে ১৮ কাঠা জমি একটি দলিলে মূল্য ধরা হয় ৯ কোটি টাকা। এ দলিলের গ্রহীতারা হলেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু, তার ভাই শেখ শাহরিয়ার পান্না ও স্ত্রী শিরিন আক্তার। ১২ দশমিক ২৫ কাঠা জমির অন্য দলিলে দাম ধরা হয়েছে ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ দলিলের গ্রহীতা আবদুল হাই বাচ্চুর দুই ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক ও শেখ রাফা হাই। অথচ জমি কেনার জন্য আবদুল হাই বাচ্চু ১৩৪টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং নগদে ৩১ কোটি ৫০ লাখ, অর্থাৎ মোট ১১০ কোটি টাকা আমিন আহমেদকে পরিশোধ করেন।
এ ঘটনায় করা দুককের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শেখ আবদুল হাই বাচ্চু, তার স্ত্রী, ভাই ও সন্তানদের নামে ৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তরের গোপন করেছেন। আর ১১০ কোটি টাকায় জমি কিনলেও ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকায় দলিল করে আবদুল হাই বাচ্চু সরকারের ৮ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। আসামি আমিন আহমেদ তার এই অবৈধ অর্থ বৈধ করতে সহায়তা করেছেন।