যুক্তরাষ্ট্রে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের প্রার্থী থাকা না থাকার বিতর্ক চলছেই। বাইডেন নিজেই বারবার বলছেন, তিনি সরে দাঁড়াবেন না। অর্থাৎ তিনি সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়বেন এবং জয়ী হবেন। কিন্তু আশি পেরোনো বাইডেনের এমন বক্তব্যে আস্থা নেই অনেকের। খোদ ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যেই দেখা দিয়েছে বাইডেনের প্রতি অনাস্থা। দলটির একাধিক নেতা একাধিক বার বলেছেন, ভোটের লড়াই থেকে বাইডেনকে সরে যেতে। এবার তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কড়া সমালোচনাটি এলো ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম শীর্ষ অর্থ সংগ্রাহক এবং হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি। বাইডেনের প্রার্থিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও।
বিবিসি বলছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি কলামে বাইডেনের বিরুদ্ধে কড়া কথা বলেছেন জর্জ ক্লুনি। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে দাতাদের সঙ্গে একটি আয়োজনে ছিলেন বাইডেন ও ক্লুনি। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে জর্জ ক্লুনি লিখেছেন, সপ্তাহ তিনেক আগে যে জো বাইডেনকে আমি দেখেছি, তিনি ২০১০ সালে দেখা বাইডেন নন। এমনকি তিনি ২০২০ সালে দেখা বাইডেনও নন। বরং তিনি সেই ব্যক্তি, যাকে আমরা বিতর্কের মঞ্চে (ট্রাম্পের সঙ্গে) দেখেছি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট তার ক্যারিয়ারে অনেক লড়াইয়েই জিতলেও, একটি লড়াইয়ে তিনি জিততে পারেননি। আর তা হচ্ছে সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি আরও লিখেছেন, বাইডেন হচ্ছেন সে মানুষটি যাকে আমরা নির্বাচনী বিতর্কে (২৭ জুন) দেখেছি। এটি বয়সের ব্যাপার, আর কিছুই নয়। আমরা এ প্রেসিডেন্টকে নিয়ে নভেম্বরের নির্বাচনে জিততে পারব না।
নভেম্বরে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে জো বাইডেনকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম শীর্ষ অর্থ সংগ্রাহক এবং হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট ও সাবেক হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বাইডেনকে নির্বাচনে তার প্রার্থিতা নিয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পেলোসি বলেন, গত মাসের নির্বাচনী বিতর্কে এরকম নাস্তানাবুদ হওয়ার পর আমরা তাকে প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি, কারণ তার হাতে খুব বেশি সময় নেই।
বাইডেনের প্রার্থিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাইডেনের জয় পাওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট তাকে ইতিমধ্যেই সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একদিকে যেমন ন্যান্সি পেলোসি এবং মাইকেল বেনেটের মতো জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাটরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তেমনি মার্কিন সিনেটর পিটার ওয়েলচ বুধবার বাইডেনকে নির্বাচন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বাইডেনের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন থেকে তার জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং কংগ্রেশনাল ব্ল্যাক ককাসসহ (৬০ জন রাজনীতিবিদের একটি গ্রুপ) মূল ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন ধরে রেখেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলনেও বাইডেনের প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর থেকেই একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে জো বাইডেনকে।
ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কের পরই ৮১ বছর বয়সী বাইডেনকে ভোটের মাঠ ছাড়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বয়স্ক বাইডেনকে আর যোগ্য বলে বিবেচনা করছেন না বড়সংখ্যক মানুষ। বিতর্ক অনুষ্ঠানেও তার আচরণে বয়সের ছাপ স্পষ্ট বোঝা গেছে।
বাইডেন স্বীকার করেছেন, বিতর্কের রাতে তিনি ভুল করেছেন। তবে নভেম্বরের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তিনিই দলের নেতৃত্বে থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
বাইডেনের প্রচারণা কর্মকর্তারা বলছেন, গাজা ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের নীতি নিয়ে হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি ও তার স্ত্রী প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনির মতামতের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের তীব্র দ্বিমত রয়েছে।
তবে ক্লুনি শুধু একজন হলিউড তারকাই নন, বছরের পর বছর ধরে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ তহবিল সংগ্রাহকদের একজন। বিশেষ করে হলিউডসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে দলের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন তিনি। আর দলীয় তহবিলের বেশ বড় একটি অংশ আসে হলিউড থেকে। তাই এখন ক্লুনির এমন অবস্থান বাইডেনের জন্য বড় হুমকি।