মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাত থেকে জীবন বাঁচাতে এবার দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) ও সেনাবাহিনীর ১৩৯ জন সদস্য টেকনাফে পালিয়ে এসেছে। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের হেফাজতে রয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কয়েক ধাপে তারা পালিয়ে আসে।
এর আগে বান্দরবানসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিজিপি সদস্যসহ সরকারি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পালিয়ে এসেছিল। পরে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।
এর মধ্যে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে কয়েক দফায় গত বুধবার সকালে ২০ জন ও বৃহস্পতিবার ১১৯ জন সেনা ও বিজিপি সদস্য পালিয়ে এসেছে।
বেশ কিছুদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত শহর মংডু টাউনশিপ দখলে নিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মংডু জেলার অধিকাংশ এলাকা ইতিমধ্যেই আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। এখন শুধু মংডু টাউনশিপ দখলের লড়াই চলছে।
সীমান্তের একাধিক সূত্র মতে, আরাকান আর্মি মংডু টাউনশিপ ঘিরে ফেলেছে। সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দে টেকনাফের সীমান্ত এলাকাও প্রকম্পিত হচ্ছে। যুদ্ধে কুলিয়ে উঠতে না পেরে মিয়ানমারের সেনা ও বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন দফায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও নাজিরপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্যরা নাফ নদী পার হয়ে অনুপ্রবেশ করে। পরে তাদের নিরস্ত্র করে বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা হেফাজতে নেন। কিন্তু এ বিষয়ে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, নতুন করে মিয়ানমারের সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য এপারে এসে আশ্রয় নিয়েছে বলে শুনেছেন তিনি। তারা বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্তের স্থল ও জলসীমায় সার্বক্ষণিক বিজিবির সদস্যরা টহল দিয়ে যাচ্ছেন। মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সীমান্তের যেকোনো ঘটনা মোকাবিলায় বিজিবির সদস্যরা প্রস্তুত।