বাংলাদেশে আইনের শাসন চলবে এবং সে জন্যই আইনের পথ ধরে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কিন্তু কোনো ইস্যু নাই। আপনারা শুধু শুধু রাস্তায় থাইকেন না। আপনাদের যে কাজ সেটা হচ্ছে লেখাপড়া করা। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে আপিল বিভাগে বক্তব্য রাখবেন। আমি আশা করি আপনারা স্ব স্ব বুদ্ধিতে ক্লাসে ফিরে যাবেন।’
গতকাল শুক্রবার দুপুরে কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন।
পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি-৩ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের মাঝে সঞ্চয়ের চেক বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮ সালে একবার হয়েছিল। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা এই কোটা বাতিল করে দিয়েছিলেন। সেই কোটা বাতিল করার পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট বিভাগে একটা মামলা করেন। এ মামলায় যারা আজকে আন্দোলন করছে তারা কিন্তু পক্ষভুক্ত হন নাই। হাইকোটের সামনে তারা নিজেরা কিংবা তাদের কোনো আইনজীবী বক্তব্য দেননি। হাইকোর্ট একটা রায় দিল যে কোটা যেটা বাতিল হয়েছে, সেটা বে-আইনি। তখন সরকার আবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করল। সেখানেও কিন্তু যারা আজকে কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন, রাস্তায় নেমেছেন তারা পক্ষভুক্ত হননি। তাদের বলা হয়েছিল আপনারা পক্ষভুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তাহলে আদালত নিশ্চয়ই তাদের বক্তব্য শুনবেন। যেভাবেই হোক তারা পক্ষভুক্ত হয়েছেন।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে মহানগর প্রভাতী ট্রেনযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এসে পৌঁছেন মন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
আনিসুল হক বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিরোধিতা করেছিল এবং ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের ১৭ জন সদস্যসহ হত্যা করেছিল, সেই প্রেতাত্মারা আজকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে কিছুটা হলেও ষড়যন্ত্রের মধ্যে লিপ্ত থাকার কথা অস্বীকার করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা যারা কোটার ব্যাপারে তাদের বক্তব্য পেশ করেছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, সেই আদেশ মেনে তারা ঘরে ফিরে যাবেন। আমি বিশ্বাস করি আন্দোলনকারীরা জনগণের অসুবিধা হোক, জনগণ দুঃখ-কষ্ট ভোগ করুক, সেগুলো পরিহার করে তারা তাদের ব্যবস্থা নেবে। আমার মনে হয় তারা ঘরে ফিরে যাবে।’
জনগণের জানমাল রক্ষা করা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করে, সরকারকে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ সময় আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।