আবারও নেপালের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কে পি শর্মা অলি

আবারও নেপালের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কে পি শর্মা অলি। আজ রবিবার তিনি নতুন জোট সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। গত শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল আস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে। আর তৃতীয়বারের মতো দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অলি। 

কাঠমান্ডু পোস্ট জানাচ্ছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহলের সরকারের ওপর থেকে গত সপ্তাহে সমর্থন তুলে নেয় অন্যতম বৃহত্তম জোটসঙ্গী কে পি শর্মা অলির দল লিবারেল কমিউনিস্ট ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) পার্টি। এর আগে গত জুনের শেষের দিকে অলি মধ্যপন্থি দল নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। এর ফলে পার্লামেন্টে এই জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ সুগম হয়। তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, কে পি শর্মা অলি নতুন সরকার গড়বেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে সরকার গঠন করেছিলেন পুষ্পকমল দহল। তখন তৃতীয়বারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এরপর সরকার টেকাতে তাকে তিনবার জোটসঙ্গী বদলাতে হয়। আর পাঁচবার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হয়। শুক্রবার পঞ্চমবারের অনাস্থা ভোটে হেরে যান তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল বলেন, কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের জোটের অবস্থান গণতান্ত্রিক চর্চার বিরুদ্ধে।

তবে ইউএমএল পার্টির সংসদ সদস্য যোগেশ ভট্টরাই বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে নতুন জোট সরকারের প্রয়োজন ছিল।

২০০৮ সালে নেপালে ২৩৯ বছরের পুরনো রাজতন্ত্রের অবসান ঘটানো হয়। এর পর থেকে গণতান্ত্রিক নেপালে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা। কে পি শর্মা অলি নতুন সরকার গঠন করলে সেটা হবে ২০০৮ সালের পর দেশটিতে গঠন করা ১৪তম গণতান্ত্রিক সরকার।

নেপালের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সব সময় বড় দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের কড়া নজরদারিতে থাকে। হিমালয়ঘেঁষা নেপালে এই দুই দেশের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। দিল্লি ও বেইজিং নেপাল ও নেপালের রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে চায়।