বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান সাদা করেছেন ৯০ কোটি

বেঙ্গল গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু দুই অর্থবছরে ৯০ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকার অপ্রদর্শিত আয় (কালো টাকা) কর দিয়ে বৈধ করেছেন। এর মধ্যে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৪ কোটি এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৬ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকা সাদা অর্থাৎ বৈধ করেছেন তিনি। তবে এ অর্থ অর্জনের উৎস জানাতে পারেননি আবুল খায়ের লিটু। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান এ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। পরে তা কর দিয়ে বৈধ করেছেন তিনি।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল আবুল খায়ের লিটুর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মোনায়েম হোসেন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন। গত ১১ জুলাই এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। একই দিনে বেঙ্গল গ্রুপ চেয়ারম্যানের স্ত্রী মহুয়া খায়েরের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে ৯৭ লাখ ৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ২ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে দুদক।

দুদকের তথ্যমতে, আবুল খায়ের লিটু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ে। এরপর কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপপরিচালক মো. মোনায়েম হোসেনকে দায়িত্ব দেয়। তিনি অনুসন্ধান শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। কমিশন প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে মামলা করার অনুমোদন দেয়। পরে মামলাটি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানকে। তিনি তদন্ত করে লিটুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিতে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। কমিশন গত ১১ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, আবুল খায়ের লিটুকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের জন্য ২০২২ সালের ২১ মার্চ নোটিস দেওয়া হয়। এরপর তিনি একই বছরের ৩০ মে দুদকে সম্পদের হিসাব জমা দেন। সম্পদ বিবরণীতে তিনি ২৪ কোটি ৩২ লাখ ১৯ হাজার ৫২৩ টাকার স্থাবর ও ১৫৩ কোটি ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৭০ টাকার অস্থাবরসহ ১৭৭ কোটি ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৯৩ টাকার সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবুল খায়ের লিটুর একটি বেসরকারি ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় তিনটি এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট) অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এসব এফডিআরে থাকা ১১ লাখ ১২ হাজার ৫০২ টাকার তথ্য সম্পদের হিসাব বিবরণী গোপন করেছেন তিনি। এ ছাড়া তিনি ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৪ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত আয় (কালো টাকা) কর দিয়ে সাদা (বৈধ) করেন। এ ছাড়া তিনি একইভাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৬ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজারর টাকার অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করেন। আবুল খায়ের লিটু দুই অর্থবছরে ৯০ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার কালো টাকা সাদা করেছেন। কিন্তু এসব টাকা অর্জনের কোনো উৎস দেখাতে পারেননি। দুদকের কাছে প্রতীয়মান হয় তিনি এসব অর্থ অবৈধ উপায়ে অর্জন করে কর দিয়ে বৈধ করতে চেষ্টা করেন। অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ নিজ ভোগ দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলাটি করা হয়।

মহুয়া খায়েরের বিরুদ্ধে মামলা : আবুল খায়ের লিটুর স্ত্রী মহুয়া খায়েরের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ গত ১১ জুলাই মামলা করেছে দুদক। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীতে ৯৭ লাখ ৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ২ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের উপপরিচালক মোনায়েম হোসেন এ মামলাটি করেন।