হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হয়ে প্রায় ২৪ বছর ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) থাকা শরীফা বেগমের আপিল মামলার ওপর আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ সিদ্ধান্ত দেয়। গতকাল ফৌজদারি আপিলটি (মো. আব্দুস সামাদ আজাদ এবং অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র) আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ক্রমিকে ৭৩ নম্বরে ছিল। মামলাটিতে শুনানি করতে চেয়ে উপস্থাপন (মেনশন) করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
তিনি আদালতকে বলেন, ‘মামলাটি কার্যতালিকায় রয়েছে। আসামি ২৪ বছর ধরে কনডেম সেলে আছেন।’
প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, ‘এটা কি সেই মামলা, যেটি পত্রিকায় এসেছে। এটা তো আমি নিজ উদ্যোগে কজলিস্টে (কার্যতালিকা) দিয়েছি।’
আইনজীবী বলেন, ‘এই মামলাটি বিশেষ বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করা যায় কি না। আমাদের জানামতে আর কারও এত বেশি সময় কনডেম সেলে থাকার নজির নেই।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মামলাটি ওপরের দিকেই (কার্যতালিকা) তো আছে।’ আইনজীবী বলেন, ‘আরেকটু ওপরের দিকে এনে নিষ্পত্তি করা যায় কি না।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আজকে তো সম্ভব হবে না। আগামী সপ্তাহে আসেন।’
অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণত মঙ্গল ও বুধবারে ফৌজদারি আপিল মামলার শুনানি হয়। তিনি বলেন, ‘দুই যুগ ধরে কনডেম সেলে থাকা শরীফার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করতে মেনশন করেছিলাম। আদালত বলেছেন, আগামী সপ্তাহে আসতে বলেছেন।’
১ জুলাই দেশ রূপান্তরে ‘ফাঁসির দিন গুনে এক নারীর ২৪ বছর’ শিরোনামে এবং ‘শরীফাকে কেউ মনে রাখেনি’ উপ-শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইদিন সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেদনটি নজরে নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আপিল মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুলাই এই আপিল মামলাটি (৯৬/২০১৭) শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাস বয়সী মেয়ে সূচী আক্তারকে রেখে ২৬ বছর আগে হত্যা মামলায় শরীফা বেগম কারাগারে যান। ৫৫ বছরের জীবনের প্রায় ২৪ বছরই ‘মৃত্যু সেলে’ থাকা শরীফার মামলার বিচারই এখনো শেষ হয়নি। শরীফার মতো জামালপুরের আবদুস সামাদ আজাদ ওরফে সামাদও একই মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হয়ে ২৪ বছর ধরে ফাঁসির সেলে বন্দি। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংঘটিত ওই খুনের ঘটনায় ১৯৯৮-এ গ্রেপ্তারের পর ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর বিচারিক আদালতে তার ফাঁসির রায় হয়। সেই থেকে শরীফা ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) বন্দি। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্টে তার এবং সামাদের সাজা বহাল থাকে। এরপর ২১ বছরেও তার আপিল নিষ্পত্তির তথ্য মেলেনি। কারা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কারা ইতিহাসে আর কোনো নারী আসামিকে এত দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকতে হয়নি। এতে আরও বলা হয়, ২০১৬ থেকে শরীফা আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ফাঁসির সেলে। আর্থিক অসংগতি ও মুক্তির সম্ভাবনা নেই মনে করে শরীফার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ কমে গেছে।