কোটা আন্দোলনে রণক্ষেত্র গাইবান্ধা, আ. লীগ কার্যালয়ে হামলা

কোটা সংস্কার এবং শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধা শহরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে জেলা শহরের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলে বেধে পৌরপার্কে সমবেত হয়। সেখান থেকে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের ডিবি রোর্ড হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে উল্টো মোড় নিয়ে আবার পৌরপার্কের দিকে আসে। পরে শহরের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া রেলগেটের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে।

এ সময় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ শেষে তারা রেলগেট সংলগ্ন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, গাইবান্ধা পৌর মেয়র মতলুবর রহমান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পৌর মেয়রকে গাইবান্ধা জেলারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরে গেছেন।

বিক্ষোভ এবং অবরোধ চলাকালীন সময়ে তারা নিজেদের" রাজাকার রাজাকার ও আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই " ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। পাশাপাশি শহরের বেশকিছু ফেস্টুন ব্যানার ভাঙচুর করে।

অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের বর্বর এবং পৈশাচিক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।