আপাতত চালু হচ্ছে না মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রেলওয়ে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুটি টোল প্লাজা ও মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ করে দেয় কর্র্তৃপক্ষ। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমিউনিকেশন সিস্টেম যদি ঠিক থাকে তাহলে মেট্রোরেল দুটি স্টেশন বন্ধ রেখে চালু করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চালু করা যেতে পারে।
এক সপ্তাহের স্থবিরতা কাটিয়ে দুদিন ধরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরছে ঢাকাসহ সারা দেশ। তবে এখনো বন্ধ আছে মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটড এক্সপ্রেসওয়ে ও রেল যোগাযোগ। যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা চালু হলেও মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকে সড়কে। রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় সহজ দুটি মাধ্যম বন্ধ থাকায় চিরচেনা যানজটের ভোগান্তির পথে হাঁটতে হয়েছে নগরবাসীকে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মো. রাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তানে আসতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে। পুরো রাস্তায় যানজট। এখন গুলিস্তানে এসে অন্য গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। খুব সংকট গণপরবিহনের।’ মিরপুরের বাসিন্দা মো. জয় বলেন, ‘মেট্রোরেল দিয়ে পল্টন এলাকায় আগে ২০ মিনিটের মধ্যে চলে আসা যেত। আজ (গতকাল) তিন ঘণ্টার মতো সময় লেগে গেল পল্টন আসতে। আর অফিস শেষ করে যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তখন আবার কারফিউর জন্য সড়কে একদমই গণপরিবহন পাওয়া যায় না। সরকারে কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে মেট্রোরেল চালুর দাবি জানাচ্ছি।’
নিউ মার্কেট থেকে গাজীপুর রুটে ভিআইপি পরিবহনের এক চালক সোহরাব মিয়া বলেন, ‘এলিভেটেড দিয়ে আগে বিজয় সরণি পার হতে ৩০ মিনিটের মধ্যে উত্তরায় যাওয়া যেত। এখন নিচের সড়ক দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে যেতে।’
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এতদিন বন্ধ থাকার কোনো মানে হয় না। কর্র্তৃপক্ষের দক্ষতার অভাব রয়েছে। মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ আগের থেকে বহুগুণে বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে অসংখ্য মানুষের ভোগান্তি দেখা যাচ্ছে সড়কে। আর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ থাকায় অনেকে উড়াল সড়ক ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে যোগাযোগ কিছুটা চালু হলেও প্রতিটি জায়গায় ভোগান্তির শেষ নেই।’
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এইচএমএস আখতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি চালু করতে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়া হবে।’
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মেট্রোরেল মূলত রিমোটলি কন্ট্রোল করা হয়। এখন কমিউনিকেশন সিস্টেম যদি ঠিক থাকে তাহলে মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব। যে স্টেশনে দুটি ক্ষতি হয়েছে সে স্টেশন আপাতত বন্ধ রেখে বাকিগুলো চালু করা যেতে পারে। কারণ আমরা বিগত সময় দেখেছি অনেক স্টেশন বন্ধ রেখে মেট্রোরেল চালু করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে যে স্টেশনগুলো ক্ষতি হয়েছে, সে স্টেশনের সরঞ্জামগুলো যেখান থেকে আনা হয়েছিল, সেখানে সে ডিজাইন অবশ্যই পাওয়া যাবে। কারণ এখনো মেট্রোরেলের পুরো কাজ কিন্তু শেষ হয়নি। তাই মেট্রোরেল কর্র্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা যদি থাকে তাহলে এক বছরের কথা যে শোনা যাচ্ছে দুটি স্টেশন ঠিক হতে, এত সময় লাগার কথা নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যে টোল প্লাজায় ক্ষতি হয়েছে, সেখানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায় করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে এটা তো পিপিপি প্রকল্প। এখানে অনেক বিদেশি লোকজন এটার সঙ্গে জড়িত। তাই নিরাপত্তা বাড়িয়ে এই এলিভেটেড চালু করা যেতে পারে।’