হাদিসের শিক্ষা

দোয়া বিফলে যায় না

আল্লাহতায়ালা কখনো কখনো দোয়ার ফলাফল প্রার্থনার সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে থাকেন। কখনো দোয়ার প্রতিদান আখেরাতের জন্য রেখে দেন। অতএব, দোয়া কবুল হয় না এমন ধারণা করা ভুল। নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যদি কোনো মুসলমান কোনো জিনিস চাওয়ার জন্য আল্লাহর দিকে স্বীয় চেহারাকে ফেরায়। অর্থাৎ তার কাছে দোয়া করে, আল্লাহতায়ালা তার দোয়া কবুল করেন। হয়তো ওই জিনিস তাকে তৎক্ষণাৎ দান করেন অথবা দুনিয়া ও আখেরাতে তার জন্য জমা করে রাখেন। (মুসনাদে আহমদ ৯৭৮৫)

দোয়া কবুল হওয়ার সময়

দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ বিশেষ কিছু সময় আছে। তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত উত্তম সময়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকতে আমাদের রব আমাদের নিকটতম আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন, কে আছে আমার কাছে দোয়া করবে? আমি তার দোয়া কবুল করব। আমার কাছে কে প্রার্থনা করবে? আমি তাকে দান করব। আমার কাছে কে তার গোনাহ মাফ চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। (সহিহ বুখারি : ৬৩২১)

যে কারণে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন

আল্লাহতায়ালা এমন একজন দাতা যে চাইলে তিনি খুশি হন, বরং না চাইলে অসন্তুষ্ট হন। হজরত আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা আল্লাহতায়ালার কাছে তার দয়া ও রহমত চাও। কেননা চাইলে তিনি খুশি হন। (জামে তিরমিজি ৩৫৭১)

দোয়ার আগে করণীয়

দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং নবী কারিম (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা জরুরি। দ্রুত দোয়া কবুল হওয়ার সহজ উপায়। হজরত ফাদালা ইবনে উবাইদ (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.) শুনতে পান যে জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা ও নবী কারিম (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ ছাড়া দোয়া করতে শুরু করে। তিনি বলেন, সে তাড়াহুড়া করেছে। (সুনানে আবু দাউদ ১৪৮১)

দোয়া শেষ করার নিয়ম

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদের মাধ্যমে দোয়া শেষ করতে হয়। তারপর হস্তদ্বয় দ্বারা মুখমণ্ডল মুছে নিতে হয়। হজরত আস সাইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী কারিম (সা.) দোয়ার সময় তার ওপরে হাত উত্তোলন করতেন এবং তার দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ করতেন। (সুনানে আবু দাউদ ১৪৯২) গ্রন্থনা : আরশাদ আলী