বিবৃতিতে ফখরুল

দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন

সরকার জনরোষে পড়ার ভয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে কারফিউ জারি করে রেলসহ সব যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘জনগণকে কর্মহীন রেখে অনাহারে দিনাতিপাত করতে বাধ্য করছে। দ্রব্যমূল্য দিন দিন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে জাতি দ্রুত মুক্তি চায়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান।’ গতকাল শনিবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

দেশের মানুষ ১৭ বছর ধরে নির্যাতন, খুন, গুম, হত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে সরকারের ওপর বিক্ষুব্ধ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা (সাধারণ মানুষ) সুযোগ পেলেই নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময় মাঠে নেমে সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সরকারকে বার্তা দিয়েছে পদত্যাগের। আইনশৃঙ্খলার বাহিনী বলছে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়নি। তাহলে দেশবাসীর প্রশ্ন, জানালা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শিশু সামির কীভাবে নিহত হলো? ছাত্রদের গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে দেখতে যাওয়া ও মায়াকান্না এবং সাহায্যের কথা বলা জনগণকে প্রতারণার আরও একটি নজির। সরকারকে বলব, সব হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করে দেশ এবং দেশের মানুষকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুকে আদালতে রিমান্ড শেষে নিয়ে আসার সময় গণমাধ্যমে যে চিত্র এসেছে তা যে কোনো বিবেকবান মানুষকে আলোড়িত করবে। সরকার মধ্যযুগীয় নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। কোটা আন্দোলনের অন্যতম তিন সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদারকে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তুলে নিয়ে গিয়েছে। এই ধরনের বর্বরোচিত অমানবিক কাজ পুরো সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।’

তার দলের নেতাকর্মীসহ ভিন্নমতাবলম্বী অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খানকে গত ২৫ জুলাই গভীর রাতে তার মগবাজারের বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে এবং রাতভর নির্যাতন চালায়। তাকে মেট্রোরেল পোড়ানোর বানোয়াট মামলায় জড়িয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশ ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নয়াব আলীর একটি চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, জহিরউদ্দিন স্বপন, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন জাতীয় নেতা ও অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারান্তরীণ করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘গতকাল (গত শুক্রবার) যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের বাসায় তল্লাশি করে তাকে না পেয়ে তার ভায়রা, শ্যালক ও শ্যালকের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ অসংখ্য মানুষের বাড়ি বাড়ি ডিবি পুলিশ তল্লাশি করছে। সরকার ক্ষমতা আগলে রাখতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে মসনদ ধরে রেখেছে।’

সাংবাদিক সাঈদ খানসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।