পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যার নামে ১১৬টি ব্যাংক হিসেবে (চলতি, সঞ্চয়ী, স্থায়ী আমানত, বৈদেশিক মুদ্রা) কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যার মধ্যে অনেক অস্বাভাবিক লেনদেনও রয়েছে। বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যার নামে ৪৩ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রবিবার হাইকোর্টে এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুদক।
গত ২৩ এপ্রিল বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদককে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেয় দুদক। গতকাল এটি আদেশকারী বেঞ্চে হলফনামা করে জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি কার্যতালিকায় এলে এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের প্রধান কৌঁসুলি মো. খুরশীদ আলম খান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদের নামে ৯ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৫ টাকা মূল্যের, তার স্ত্রী জীশান মীর্জার নামে ২১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৩ টাকা মূল্যের, তাদের জ্যেষ্ঠ কন্যা ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীরের নামে ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৬ টাকা মূল্যের এবং মেজো কন্যা তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে নিবন্ধিত তাদের পূর্ণ মালিকানাধীন একাধিক কেম্পানি, আংশিক মালিকানাধীন একাধিক কোম্পানি পাওয়া গেছে। এসব কোম্পানিতে তাদের কোটি কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত একাধিক ব্রোকারেজ হাউজে তাদের নামে বেশ কয়েকটি বিও অ্যাকাউন্ট ও তাতে লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আয়কর অফিস থেকে তাদের আয়কর নথির যাবতীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানকালে ঢাকার কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি করপোরেট ব্রাঞ্চের হিসাবগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, এগুলো থেকে অনুসন্ধান শুরুর পর দ্রুততম সময়ে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা সঞ্চয় হিসাব থেকে ২৩ এপ্রিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ২ হাজার ৮১২ টাকা, একই দিন ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া জীশান মির্জার সঞ্চয় হিসাব থেকে একই দিন ১ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ১৪ টাকা, ৫৪ লাখ ৬৯ হাজার ৭৩৩ টাকা, ১০ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৬ টাকা ও ৬৭ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪৪ টাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া ফারহীন রিশতার নামে ২৯ এপ্রিল তোলা হয় ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৬ টাকা।
অ্যাডভোকেট খুরশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনুসন্ধানকালে এখন পর্যন্ত যা যা পাওয়া গেছে তা জমা দেওয়া হয়েছে। কার্যতালিকায় এলে শুনানি হবে।’