মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়েছিল প্রতিবন্ধী সোহাগ

সেদিন ছিল ১৯ জুলাই। বাড্ডায় তখন তুমুল সংঘর্ষ, থেমে থেমে আসছে গুলির শব্দ। প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বেরিয়েছে বাবা। ওষুধ শেষ বিছানায় কাতরাচ্ছেন অসুস্থ মা। বাধ্য হয়ে মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বের হন প্রতিবন্ধী ছেলে সোহাগ। কিন্ত তার আর ফেরা হয়নি। হাতে মায়ের ওষুধ নিয়ে গুলিতে প্রাণ হায় সে।  

ঢাকার উত্তর বাড্ডার জিএম বাড়ির ভাড়া বাসায় বাবা মায়ের সঙ্গে বসবাস করত প্রতিবন্ধী সোহাগ (১৭)। ভাড়া বাসার পার্শ্ববর্তী একটি রঙের ছোট ফ্যাক্টরিতে কাজ করে পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করত সে। 

সোহাগের গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের বড় পাহাড়পুর গ্রামে। তার বাবার নাম রেজাউল ইসলাম। দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে সোহাগ। জন্ম থেকেই সোহাগের পা ও চোখের প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। নানা চিকিৎসার পরেও সমস্যা থেকে যায়।

তার গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ছোট্ট একটি মাটির ঘরের বারান্দায় ছেলের কবরের দিকে মুখ করে বসে আছেন মা সালমা বেগম। অঝরে ঝরছে তার চোখের পানি। তার সঙ্গে গায়ে কাপুনি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাবা রেজাউল ইসলাম। তাদের ঘিরে থাকা প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙে পড়ছে।

হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মা গার্মেন্টেস কর্মী সালমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হামার বুক কেটা খালি করলি বাবা? আল্লাহ তার বুক খালি করবি।’

রিকশাচালক বাবা রেজাউল বলেন, আমি রিকশা নিয়ে গেছি। আমাকে কে যেন বলল, আমার ছেলের গায়ে গুলি লাগছে। শুনিয়া আমি এমজেড হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি কাউকে চিকিৎসা দিচ্ছে। আবার কাউকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখছে। ঢেকে রাখা কাপড়ের নিচ দিয়ে আমার ছেলের পাঞ্জাবি দেখা যাচ্ছে। আমি সেখান থেকে ছেলেকে কোলে নিয়ে রিকশায় করে বাসায় আসি। এরপর গাড়ি ভাড়া

করে গ্রামের বাড়িতে আসি। আমার নিজের কোনো জমি না থাকায় অন্যের জমিতে ছেলের লাশ দাফন করেছি। এখন আমি কী করে সংসার চালাব। আমার শরীলতো এখন থরথর করে কেঁপে ওঠে।

একই গ্রামের ও একই মালিকের ভাড়া বাসায় থাকা নুরু মিয়ার ছেলে হিরু মিয়া বলেন, ‘সোহাগের গুলিটা বুকের বাম পার্শ্বে লেগে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। পুরো শরীর রক্ত দিয়ে মেখে গেছে।’

শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, ‘আমি শুনেছি পাহাড়পুর গ্রামের একজন ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। পরিষদের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানিনা। এ রকম তথ্য আমার কাছে নাই।’