রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরভস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মস্কো তার ধীরগতির আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ায় ইউক্রেনীয় মূল সরবরাহ লাইন হুমকির মুখে পড়েছে। নতুন ইউক্রেনীয় সামরিক নিয়োগ এবং পশ্চিমা অস্ত্র আসার আগে অঞ্চলটি দখল করার লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে রাশিয়া পূর্ব ফ্রন্ট জুড়ে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রসারিত করছে। যদিও এ সময়ে রাশিয়ার অর্জন সামান্য ছিল, পোকরভস্কের দিকে রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি ইউক্রেনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিবিসি বলছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার ভাষণে ইউক্রেনীয় সেনাদের মুখোমুখি হওয়া ‘অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং’ বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে কঠিন পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন।
জেলেনস্কি বলেছেন, পোকরভস্ক সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সর্বাধিক সংখ্যক রুশ হামলা মোকাবিলা করেছে। তিনি বলেন, যারা এই রাশিয়ান হামলা বন্ধ করতে এবং তাদের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড ধ্বংস করতে কাজ করে যাচ্ছে, তারা যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিশন সম্পাদন করছে।
ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) এর বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রুশ সৈন্যরা সম্প্রতি আভদিভকার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পোকরভস্কের কাছে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত অগ্রগতি অর্জন করেছে। গত মঙ্গলবার রুশ বাহিনী পোকরভস্ক থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ছিল, এই অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলার লক্ষ্যে। পোকরভস্ক ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর একটি মূল কেন্দ্র যেখানে যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দা ছিলেন। তাদের অনেককেই সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোস্তিয়ানতিনিভকা এবং দুটি শহরের সংযোগকারী রাস্তার প্রবেশাধিকারের কারণে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের জরুরি পণ্য সরবরাহ এবং হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক এবং দোনেৎস্কের সমস্ত অঞ্চল দখল করার লক্ষ্য নিয়েছিলেন। দ্রুজকিভকা, ক্রামতোর্স্ক এবং স্লোভিয়ানস্কের সঙ্গে
কোস্তিয়ানতিনিভকা শহর একটি গুরুত্বপূর্ণ বেল্টের অংশ, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক মেরুদণ্ড গঠন করে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকা এবং পোকরভস্কের মধ্যবর্তী রাস্তা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লোজুভাতস্ক এবং ভোভচে গ্রামগুলো দখল করা হয়েছে।
কিয়েভ জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় সৈন্যরা কঠোর লড়াই করছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় পোকরভস্কের দিকে ৫২টি হামলা প্রতিরোধ করেছে। তবে আপাতত তাদের চাপ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
কয়েক মাস বিলম্বের পরে মে মাসে ইউক্রেন নতুন করে মার্কিন অস্ত্র পেতে শুরু করেছে এবং হাজার হাজার নতুন সৈন্য নিয়োগ করেছে, যারা শরৎকালে সামনের সারিতে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন অস্ত্র ও নতুন সেনা ইউক্রেনকে যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।