হাদিস গ্রহণে সতর্কতা

কেউ আমাদের কোনো একজন বর্ণনাকারীর উদ্ধৃতিসহ হাদিসের নামে একটি ভালো কথা বলে দিলেন, সঙ্গে রেফারেন্সও দিলেন। আর সেটাই আমরা হাদিস হিসেবে গ্রহণ করে নিলাম, এমনটি কখনো কাম্য নয়। অথবা এমন একটি বক্তব্য তুলে ধরা হলো, যে বিষয়টি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী। আমরা কি তখন সে বর্ণনাটি গ্রহণ করব? একইভাবে যে কোনো ধর্মীয় বইয়ে এমন কোনো বর্ণনা উল্লেখ করা হলো, বাস্তবে তা রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত ও প্রমাণিত কোনো হাদিস নয়। এমনকি ইতিপূর্বে মুহাদ্দিসরাও তা হাদিস নয় মর্মে সতর্ক করেছেন। এমন হাদিস বর্ণনা করা  থেকে বিরত থাকা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

যুগে যুগে হাদিসের মুহাদ্দিস ও ইমামরা হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু নীতিমালা তৈরি করেছেন। রচনা করেছেন রাবিদের (হাদিস বর্ণনাকারীদের) জীবনীগ্রন্থ। যাতে আলোচিত হয়েছে, এক একজন রাবির জীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ ও কর্মের ফিরিস্তি। এসবের মধ্যে যুক্ত হয়েছে রাবিদের আমল, আখলাক, আকিদা ও আদর্শের বিবরণ। তাদের শিক্ষা-দীক্ষার আলোচনা। স্থান পেয়েছে তাদের তাকওয়া তথা দুনিয়া ত্যাগ ও আল্লাহভীতির বর্ণনা। একজন বর্ণনাকারী একটি হাদিস যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বাস্তবেই হাদিসটি নির্ভরযোগ্য কারও থেকে বর্ণনা করেছেন কি না এবং তার সঙ্গে কি হাদিস বর্ণনাকারী রাবির কখনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল? বর্ণিত হাদিসের ওপর বর্ণনাকারীর নিজস্ব আমল কেমন ছিল ইত্যাদি। এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি বিবেচনা করেই হাদিসের ইমামরা হাদিস সংকলন ও সংরক্ষণে মনোনিবেশ করেছেন। লিখেছেন তাদের কিতাব সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়িসহ শত হাদিস গ্রন্থ।

এরপরও বরেণ্য হাদিস বিশারদ ইমাম ও মুহাদ্দিসদের এই স্বীকৃত গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ ও ব্যবহার করে এক শ্রেণির ধূর্ত লোক হাদিসের নামে বিভিন্ন বানোয়াট বক্তব্য ও বর্ণনা তুলে ধরার মাধ্যমে ইসলাম বিকৃতির প্রয়াস চালায়। ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াবার পাঁয়তারা করে।

এখন আমাদের মধ্যে এমন লোকও কোরআন হাদিসের বক্তব্য তুলে ধরছেন যার শিক্ষা-দীক্ষার পরিচয়ও অনেক সময় জানা যাচ্ছে না। যিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো আলেম নন। অথবা সাধারণ শিক্ষিত লোক, হাদিসের কথা বলছেন। কোরআনের ব্যাখ্যা করছেন। এ জাতীয় লোকদের কথা কি আদৌ কোরআন-হাদিস নির্ভর এবং সঠিক হতে পারে? এজন্যই আলোচক ও বক্তা সম্পর্কে জেনেবুঝে তারপর তার বক্তব্যের ওপর আমল করা উচিত।

হাদিস বানানো বা রাসুল (সা.)-এর নামে বানিয়ে কিছু বলার পরিণতি হবে ভয়াবহ। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যারোপ করল, সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করল। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

এ হাদিসের শিক্ষা হলো, রাসুল (সা.)-এর নামে হাদিস বানানোর পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। কাজেই এ জাতীয় গর্হিত পন্থা অনুসরণ করা থেকে আমাদের বিরত থাকা আবশ্যক। যে কোনো হাদিস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে হাদিস শাস্ত্রজ্ঞ প্রাজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আল্লাহতায়ালা আমাদের সঠিক বিষয়গুলো বুঝে আমল করার তওফিক দান করুন।