স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

জাতিসংঘ লোগোর গাড়ি ব্যবহারে প্রশ্ন আবাসিক সমন্বয়কের

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার সময় সেনাসদস্যরা কেন জাতিসংঘের লোগোযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করেছেন এবং আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের কারণ জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে তিনি এসব বিষয়ে জানতে চান। গোয়েন লুইসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে ওই গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে বলে সমন্বয়ককে জানানো হয়েছে। গাড়িতে জাতিসংঘের লোগো যখনই সংশ্লিষ্টদের চোখে পড়েছে, তখনই সেটা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই গাড়ি আর কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।’

একই সঙ্গে কিশোরদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, আন্দোলন ও হতাহতের ঘটনার তদন্ত কীভাবে করা হচ্ছে, কতদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে এসব বিষয়েও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক জানতে চেয়েছেন বলে জানান আসাদুজ্জামান খান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি জানতে চেয়েছেন যে, কিশোরদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাকে জানানো হয়েছে, যে কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ হত্যায় জড়িত। ওই কিশোর পুলিশ হত্যার পর তাকে ঝুলিয়ে রাখতে দড়ি টেনেছে এবং পরে ফোনে কাউকে জানিয়েছে যে পুলিশ হত্যা করা হয়েছে। তাকে ফোনের অন্যপ্রান্ত থেকে শাবাশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এ কিশোরকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।’

পুলিশ জীবন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে বাধ্য হয়েছে বলে জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে জানানো হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গোয়েন লুইসকে তদন্তের বিষয়েও অবগত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।’