মোমেনের ব্রিফিং

সহিংসতা নিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন রাষ্ট্রদূতরা

কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনায় সরকারের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারের সংখ্যা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হচ্ছে কি না, বাকস্বাধীনতা আছে কি না এসব বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে কয়েকটি দেশের।’

আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উন্নয়ন অংশীদার রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে কূটনীতিকদের আমরা লেটেস্ট (সর্বশেষ) তথ্য ও ভিডিও দেখিয়েছি। আমরা জানিয়েছি, হেলিকপ্টার থেকে র‌্যাব গুলি করেনি। এ ছাড়া আন্দোলনের সময় বিজিবি ও পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, সেটাও তুলে ধরেছি। আমরা তাদের কাছে ভিডিও সরবরাহ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলন নিয়ে দেশে-বিদেশে গুজব ক্যাম্পেইন চলছে। তাই তাদের (কূটনীতিকদের) সঠিক তথ্য দিয়েছি।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘কূটনীতিকদের সামনে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। আমরা জানিয়েছি, আন্দোলনে মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কাজ শুরু করে দিয়েছে। কমিশন সুষ্ঠুভাবে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে মোমেন জানান, বিদেশিদের এখানে বিনিয়োগ আছে। ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। এসব নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশিদের জানিয়েছি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।’

এক প্রশ্নের উত্তরে মাসুদ বিন মোমেন জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলনে এখনো পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ছাত্র ২৫ জন।

তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে গঠিত তদন্ত কমিটিকে জাতিসংঘ কারিগরি সহায়তা করতে চাইলে সরকারের আপত্তি নেই। তবে আলাদা কোনো তদন্ত কমিটিতে এখনই উৎসাহ নেই সরকারের।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রতিটি জিনিস নিয়েই কথা বলতে প্রস্তুত। কূটনীতিকদের সঙ্গে আমরা তথ্য শেয়ার করেছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে এটা শেয়ার করব।’ কোটা আন্দোলন নিয়ে কোনো দেশের সঙ্গেই আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রায় দুই ঘণ্টার এ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, সুইডেন, কাতার, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, ভারত, রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, মরক্কো, সৌদি আরবসহ ২২ দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২১ জুলাই পরিস্থিতি তুলে ধরতে কূটনৈতিকদের ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।