মানুষের রূপ ও আচরণে বৈচিত্র্যের কারণ

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তিনি তোমাদেরকে কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর একটি সময় নির্দিষ্ট করেছেন এবং আরও একটি নির্ধারিত সময় আছে, যা তিনিই জানেন। এরপরও তোমরা সন্দেহ করো।’ (সুরা আনআম ২)

আল্লাহতায়ালা আদম আলাইহিস সালামকে বিশেষ পরিমাণ মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। সমগ্র পৃথিবীর অংশ এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ কারণেই আদম সন্তানরা বর্ণ, আকার, চরিত্র ও অভ্যাসে ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ কৃষ্ণবর্ণ, কেউ শ্বেতবর্ণ, কেউ লালবর্ণ, কেউ কঠোর, কেউ নম্র, কেউ পবিত্র স্বভাব বিশিষ্ট এবং কেউ রুক্ষ স্বভাবের হয়ে থাকে। হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহতায়ালা আদম (আ.)-কে এমন এক মুষ্টি মাটি থেকে তৈরি করেছেন, যে মুষ্টি পৃথিবীর সমস্ত মাটি থেকে নেওয়া হয়েছে। তাই আদম সন্তান মাটির মতোই হয়েছে। তাদের মধ্যে লাল, সাদা, কালো, আবার এর মাঝামাঝি রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ নম্র, কেউ চিন্তাগ্রস্ত, কেউ মন্দ, কেউ ভালো, কেউ এর মাঝামাঝি পর্যায়ের রয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ)

কাদামাটি থেকে সৃষ্টির কথা দ্বারা আদম সন্তানদের সৃষ্টির সূচনা বোঝানো হয়েছে। এরপর পরিণতির দুটি মঞ্জিল উল্লেখ করা হয়েছে। একটি মানুষের ব্যক্তিগত পরিণতি, যাকে মৃত্যু বলা হয়। অপরটি সমগ্র মানবগোষ্ঠী এবং তার উপকারে নিয়োজিত সৃষ্টিজগতের সামষ্টিক পরিণতি, যাকে কেয়ামত বলা হয়।

প্রথমটির ব্যাপারে বলেছেন, মানব সৃষ্টির পর আল্লাহতায়ালা তার স্থায়িত্ব ও আয়ুষ্কালের জন্য একটি মেয়াদ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ মেয়াদের শেষ প্রান্তে পৌঁছার নাম মৃত্যু। এ মেয়াদ মানবের জানা না থাকলেও এর প্রকৃতি সম্পর্কে মানুষ অবগত। কেননা সে সর্বদা আশপাশের আদম সন্তানদের মারা যেতে দেখে। এরপর সমগ্র বিশ্বের পরিণতি অর্থাৎ কেয়ামতের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘আরও একটি মেয়াদ নির্দিষ্ট আছে, যা একমাত্র তার কাছেই’ অর্থাৎ আল্লাহই জানেন, এ মেয়াদের পূর্ণ জ্ঞান।