শিরিন হককে ডিজিএফআই

‘এই মুহূর্তে ঢাকায় আমাদের হাতে কেউ আটক নেই’

ডিরেকটরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইনটেলিজেন্স বা প্রতিরক্ষা গোয়ন্দো মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) জানিয়েছে, ঢাকায় তাদের হাতে কেউ আটক নেই। গতকাল বুধবার সকালে শিরিন হকের নেতৃত্বে মানবাধিকারকর্মীদের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে যায়। সেখানে ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের বরাতে এমন তথ্য জানান এই মানবাধিকারকর্মী।

ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিরিন হক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলেন, ‘ডিজিআইএফ জানিয়েছে, ঢাকায় এই মুহূর্তে তাদের হাতে কেউ আটক নেই। তারা আমাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। ডিজিআইএফ আরও জানিয়েছে যে তারা যৌথ কমিশন গঠন করে খতিয়ে দেখবেন দেশের অন্যান্য  জায়গায় সেনাদের হাতে কেউ গুম হয়ে আছেন কি না।’

তবে ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা। গতকাল বেলা দেড়টার দিকে তাদের ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় তাদের হাতে ছিল নিখোঁজ ও ‘গুম’ হওয়া স্বজনদের ছবি, স্মৃতিচিহ্ন।

ডিজিএফআই সদর দপ্তরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান এবং নিখোঁজ ও ‘গুম’ হওয়াদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সানজিদা ইসলাম তুলি এবং শিক্ষাবিদ সিআর আবরার।

এর আগে গত মঙ্গলবার ডিজিএফআই জানায়, গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের নির্যাতনের স্থান হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’-এ রাখা হয়েছিল, তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গতকাল জানানো হবে।

ঘরে ফিরছেন নিখোঁজরা : ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কর্মী মাইকেল চাকমা (৪০) গতকাল চট্টগ্রামে তার এক বন্ধুর বাসায় ফিরেছেন। মাইকেল চাকমার পরিবারের সদস্যরা,  স্বজন ও  বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আজমের ছেলে সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্তকৃত) আবদুল্লাহিল আমান আযমী এবং একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ঘরে ফেরেন। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমানকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের নিজ বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানায় তার পরিবার। এরপর আর আনুষ্ঠানিকভাবে তার হদিস পাওয়া যায়নি। এর কয়েক দিন পর ২৩ আগস্ট আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে গুম করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। গত মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় পোস্ট দিয়ে এই দুজনের ঘরে ফেরার কথা জানানো হয়।