চারদিন ধরে সেবা বিঘ্নিত

চট্টগ্রামের ২৫ ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে তালা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অন্তত ২৪/২৫টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে চারদিন ধরে তালা ঝুলছে। এতে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য সেবাগ্রহীতা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পর থেকে এসব ওয়ার্ড কার্যালয়ে আসছেন না কাউন্সিলররা। একইভাবে গত মঙ্গলবার থেকে নিজ কার্যালয়ে আসছেন না সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীও। কাউন্সিলর না আসায় ওয়ার্ড অফিসে আসছেন না কার্যালয়ের কর্মচারীরাও। ফলে চারদিন ধরে সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে নগরবাসী। প্রয়োজনীয় সনদ না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন অসংখ্য সেবাগ্রহীতা।

চিকিৎসার জন্য মেয়েকে ভারতে নিয়ে যেতে প্রত্যয়নপত্রের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডে কার্যালয়ে আসেন ফরিদ মাহমুদ।  কার্যালয়টিতে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

‘ভারতে চিকিৎসার জন্য আমার মেয়ের একটি প্রত্যয়নপত্র দরকার। কিন্তু গত তিনদিন ধরে ওয়ার্ড অফিসে তালা ঝুলছে। কাউন্সিলর কার্যালয়ে আসছেন না। কর্মচারীরাও আসছেন না। কখন আসবে কেউ বলতে পারছেন না। মহা মুছিবতে পড়েছি’ বলেন ফরিদ মাহমুদ।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত জামালখান ওয়ার্ড কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। প্রয়োজনীয় সনদ নিতে এসে কাউন্সিলরকে না পেয়ে সেবাগ্রহীতারা ফেরত যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী নগরের হেমসেন লেনের বাসিন্দা বিপ্লব দাশ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘মঙ্গলবার থেকে ওয়ার্ড অফিসে তালা ঝুলছে। কোনো কর্মচারীরাও আসছেন না। কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন কোথায় গেছেন সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। ওয়ারিশ সনদ পেতে তিনদিন ধরে ওয়ার্ড কার্যালয়ে আসছি। খুব সমস্যায় পড়েছি।’

ওয়ার্ড কার্যালয় বন্ধ কেন জানতে আজ শুক্রবার বিকেলে একাধিকবার কল করা হলে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গত ৪ আগস্ট কাউন্সিলর শৈবালের নেতৃত্বে এনায়েতবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় তার কয়েকজন অনুসারী। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান এই কাউন্সিলর। 

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম  চৌধুরী। ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থক।

গত সোমবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারা দেশে বিজয় মিছিল বের করা হয়। সেদিন সিটি মেয়র রেজাউলের বাড়িসহ চসিকের অন্তত ২০/২২টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে অফিস করছেন না মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। অনেকেই ভয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চকবাজার, উত্তর পাহাড়তলী, জালালাবাদ ও পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, সেবা নিতে ওয়ার্ড কার্যালয়গুলোয় প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসছেন। কিন্তু কার্যালয় বন্ধ থাকায় ফেরত যাচ্ছেন সেবাগ্রহীতা।

সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয়তা সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার সনদ, ওয়ারিশান সনদসহ প্রয়োজনীয় সব সনদ দেওয়া হয়। এসব সনদে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের স্বাক্ষর লাগে। কিন্তু এখন তা ইস্যু করা যাচ্ছে না।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার থেকে মেয়র অফিসে আসছেন না। মেয়রের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। ওয়ার্ড কার্যালয়ে কাউন্সিলররা না থাকায় মানুষ সেবা পাচ্ছেন না। অর্ন্তবর্তী সরকার গঠন হয়েছে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন বলে জানান তিনি।