অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে তেলাওয়াতকৃত আয়াত

গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআনের সুরা ফাতহের ১০ নম্বর আয়াতটি পাঠ করা হয়। আয়াতের অর্থ হলো, ‘নিশ্চয় যারা আপনার কাছে বাইয়াত (শপথ) করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বাইয়াত করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর। তারপর যে তা ভঙ্গ করে, তা ভঙ্গ করার পরিণাম বর্তাবে তারই ওপর এবং যে আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি অবশ্যই তাকে মহাপুরস্কার দেন।’

এই আয়াতে বাইয়াতে রিজওয়ানের কথা রয়েছে। বাইয়াতে রিজওয়ান হলো সেই শপথ, যাতে ওসমান (রা.)-কে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সব সাহাবি হজরত রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে শপথ গ্রহণ করেন।

এই সুরা নাজিলের প্রেক্ষাপট হলো, মদিনায় হিজরতের ষষ্ঠ বর্ষে রাসুল (সা.) স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করছেন, ওমরাহ করার জন্য ইহরামের কাজ সমাপ্ত করে কেউ কেউ মাথা মুণ্ডন করছেন এবং রাসুল (সা.) বায়তুল্লাহতে প্রবেশ করছেন। নবী-রাসুলদের স্বপ্ন ওহি হয়ে থাকে। তাই স্বপ্নটি যে বাস্তবরূপ লাভ করবে, তা নিশ্চিত ছিল।

রাসুল (সা.) যখন সাহাবায়ে কেরামকে স্বপ্নের বৃত্তান্ত শুনালেন, তখন তারা সবাই পরম আগ্রহের সঙ্গে মক্কা যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। সাহাবায়ে কেরামের প্রস্তুতি দেখে রাসুল (সা.)-ও মক্কায় যাওয়ার ইচ্ছা করলেন। কেননা স্বপ্নে কোনো বিশেষ সাল অথবা মাস নির্দিষ্ট ছিল না। তাই ওই মুহূর্তেই রাসুল (সা.) চৌদ্দশত সাহাবি নিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা করেন। কিন্তু মক্কার কাফেররা তাদের মক্কা প্রবেশে বাধা দেয়। অতঃপর বাধ্য হয়ে মক্কা থেকে ৯ মাইল দূরে হুদায়বিয়া নামক স্থানে তাঁবু ফেলেন। কুরাইশরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। তাদের সঙ্গে সন্ধি করার জন্য পাঠানো হয় ওসমান (রা.)-কে।

এদিকে মুসলমানদের তাঁবুতে একটি মিথ্যা সংবাদ রটে যায় যে, ওসমান (রা.)-কে হত্যা করা হয়েছে। এতে রাসুল (সা.) খুব মর্মাহত হন। সাহাবিরাও ক্ষিপ্ত হন। অতঃপর রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত রেখে সাহাবিরা এই শপথ নেন যে, এই হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে তারা কেউ ঘরে ফিরবেন না। এটাই হলো সেই ঐতিহাসিক শপথ। এই শপথকেই বাইয়াতে রিজওয়ান বলা হয়। অতঃপর নানা ঘটনা শেষে ওসমান (রা.) ফিরে আসেন এবং দুপক্ষের মধ্যে সন্ধি হয়।

মুসলমানরা এই শর্তে সন্ধি করতে সম্মত হন যে, এ বছর মুসলমানরা মদিনায় ফিরে যাবেন এবং পরবর্তী বছর ওমরাহ করতে আসবেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে অনেকেই বিশেষ করে ওমর (রা.) এ ধরনের সন্ধি করতে অসম্মত ছিলেন। কিন্তু রাসুল (সা.) সন্ধিকে মুসলমানদের জন্য সাফল্যের উপায় মনে করে গ্রহণ করে নেন।

উল্লিখিত আয়াতে বাইয়াত বা শপথের তাৎপর্যের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। যিনি দায়িত্ব পাচ্ছেন, তার দায়িত্ব পালন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা আন্তরিক হওয়া উচিত, সেটা এ আয়াতে স্পষ্ট। একই সঙ্গে এ শপথের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মন্দ পরিণামের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।