ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) ক্যাম্পাস ও হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
গতকাল দুপুরে ঢামেক ও এসএসএমসি একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দুই কলেজের অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের তথ্য জানানো হয়। সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয় এবং আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস, শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস এবং ডা. আলীম চৌধুরী ছাত্রীবাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, অন্যান্য এবং নতুনভাবে গঠিত কোনো ছাত্রসংগঠন) স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সিদ্ধান্ত হয় ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ও হোস্টেলে প্রকাশ্যে বা গোপনে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি আনয়ন, চর্চা, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও তাতে অন্যদের আহ্বান এবং তাদের সমর্থনমূলক কর্মকা-ে প্রচার বা প্রচারণায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাস ও হোস্টেল থেকে তাৎক্ষণিক শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া গত ১২ জুন তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে যে সব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ডা. ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাসে অবস্থান, একাডেমিক ক্লাস ও ক্যাম্পাসে আগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
অন্যদিকে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনের গ্যালারি-১-এ অনুষ্ঠিত কলেজের জরুরি একাডেমিক সভায় অনুরূপভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেন। পরে অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি, এই সিদ্ধান্তের ফলে কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে।’
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের ব্যাপারে বলা হয়, কলেজ ক্যাম্পাস ও হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে সব ধরনের রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রশিবির এবং অন্যান্য যেকোনো রাজনৈতিক দল) এবং রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক লবিং ও ক্লাবগুলোর কার্যক্রম সর্বসম্মতিক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। পাশাপাশি বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া বহিরাগতদের অনুপ্রবেশও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
বৈঠকে চলমান সব ব্যাচের (এমবিবিএস ৪৭-৫২ ব্যাচ এবং বিডিএস ৮-১৩ ব্যাচের) শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে হলে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।