দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন চায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমলাতন্ত্র সংস্কার, প্রশাসনকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখা, শিক্ষানীতি নিয়ে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করা, অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠে নামানো, জুলাই হত্যাকা-ের বিচারসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কী চাই?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা থেকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আনু মুহম্মদ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় লিখিত প্রস্তাবনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে যেসব দাবি তুলে ধরা হয় সেগুলো হলো দীর্ঘমেয়াদে গণমাধ্যমকে সরকারের প্রভাবমুক্ত করা, জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিতে প্রথমেই সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা ও এই আইনে আটক সব নিরপরাধ ব্যক্তির মুক্তি দিতে হবে। অবিলম্বে পণ্যের বাজারে সব সিন্ডিকেট বিলুপ্ত করতে হবে ও কৃষি খাতের বাজার ব্যবস্থাপনা পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমলাতন্ত্র সংস্কার করে জনবান্ধব প্রশাসনিক ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে এবং জুলাই হত্যাকা-ের বিচার করতে হলে যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে তা যেন নিরপেক্ষ হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। যত দেশি-বিদেশি গোপন চুক্তি আছে, সেগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, যেন দুর্নীতি দমনের কাজটি শুধু কতিপয় ব্যক্তিকে দায়বদ্ধ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। স্বৈরাচারী সরকারের সময় সংঘটিত দুর্নীতি ও লুটপাটেরও বিচার করতে হবে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, শিক্ষানীতি নিয়ে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে, যার উদ্দেশ্য হবে পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের পটভূমিতে যথাযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য একটি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। বিদ্যমান শিক্ষাক্রম বাতিল, পুনর্বিন্যাস এবং যুগোপযোগী করা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। পাহাড়িদের তাদের জমি ফিরিয়ে দিতে এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কী করা যায়, যেন ভবিষ্যতে এই ভূমিদখল বন্ধ হয় তা নিয়ে পাহাড়িদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। প্রবাসীদের কেবল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে তাদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জন্য তাদের প্রাণ ও জীবনমানকে যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

আশু করণীয় হিসেবে জনগণের জানমালের সুরক্ষায় অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাঠে নামতে হবে ও সব জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ, শ্রেণি নির্বিশেষে সবার জন্য সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই হত্যাকা- এবং জনগণের ওপর নৃশংস জোর-জুলুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য জাতিসংঘের সহযোগিতায় তদন্ত কমিটি এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত তদন্ত ও বিচার কাজ করতে হবে। অর্থনীতির চাকা সচল করতে শিল্প-কলকারখানা খুলে দিয়ে সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিপদ আসতে পারে তিন দিক থেকে। পূর্ববর্তী সরকারের সুবিধাভোগী, সামরিক এবং বেসামরিক আমলাদের দিক থেকে এবং যারা ভিন্ন মতাদর্শ ও রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন এবং অপরের মত সহ্য করতে রাজি নন।’