প্রকৃত মুমিনের পরিচয়

ইমানের সম্পর্ক মানুষের কলবের সঙ্গে। যা অদৃশ্য ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। মুখে বলেকয়ে কেউ মুমিন হতে পারে না বা লোকমুখে কেউ কাউকে মুমিন বললেই হয়ে যায় না। কাজকর্মেই সেটা ফুটে ওঠে। মানুষ যেন সহজে চিনতে পারে এবং ধোঁকায় না পড়ে সেজন্য পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। যার পরে আর নতুন করে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

পবিত্র কোরআনের ভাষায় প্রকৃত মুমিন সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘ইমানদার তো তারাই, (যাদের সামনে) আল্লাহকে স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর ভীত ও প্রকম্পিত হয়, যাদের সম্মুখে তার আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে তা তাদের ইমান বাড়িয়ে দেয় এবং যারা আপন রবের ওপর নির্ভরশীল। যারা নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা আনফাল ২-৩)

উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে মুমিনের পরিচয় দেওয়ার পর পরবর্তী আয়াতে মহান আল্লাহ আবারও বললেন, তারাই প্রকৃত মুমিন এবং পাশাপাশি তাদের মহাপুরস্কারপ্রাপ্তির কথাও জানিয়ে দিলেন। পবিত্র কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন লোকেরাই প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে বহু মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক।’ (সুরা আনফাল ৪)

প্রকৃত মুমিনের পরিচয় সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিন সেই ব্যক্তি যার হস্তক্ষেপ থেকে মানুষের জান-মাল নিরাপদ থাকে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে মন্দ কাজ ও গুনাহ ত্যাগ করেছে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৯৩৪)

ওপরে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিস থেকে আমরা প্রকৃত মুমিনের পরিচয় জানতে পারলাম। সেখানে প্রকৃত মুমিনের যেসব গুণ উল্লেখ করা হয়েছে, মহান আল্লাহ আমাদের সেসব অর্জন করে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তওফিক দান করুন। তাহলে আমাদের দুনিয়ার জীবন হবে সুশৃঙ্খল ও প্রশান্তিময়। আর পরকালে আমরা অর্জন করতে পারব মহাসফলতা।