সংখ্যালঘুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে শেখ হাসিনা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লিতে বসে নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। যখন তারা মানুষের সামনে দাঁড়াতে পারে না তখন আমাদের হিন্দু ভাইদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এটা তাদের অপচেষ্টা, কৌশল, খেলা। যখন তারা সমস্ত খেলায় পরাজিত হবে, নির্বাচনে হেরে যাবে, তখন তারা বলবে হিন্দু ভাইদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘ঐক্য ও সম্প্রীতি সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একটি গাছে ফুলের মতো ফুটে রয়েছে। আমাদের এ সম্পর্কের মধ্যে তারা ফাটল ধরাতে চায়। আওয়ামী লীগ এগুলো ছড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার, যখন রাজনৈতিক কোনো পট পরিবর্তন হয়, তখন একটা গলযোগ হয়, সেই গ-গোলটা কখনো ধর্মীয় নয়, সেটা রাজনৈতিক। আমরা সব সময় হিন্দু ভাইদের ভোট পেয়েছি, তাহলে আমরা তাদের কেন আলাদা ভাবব। তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর আমরা একটা স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট, ভয়াবহ নির্যাতনকারী শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত। আমাদের প্রায় ৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছে। প্রায় হাজারখানেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নগুলোর মতো এই ইউনিয়নের হাজারও নেতাকর্মী মামলা খেয়েছেন। গণ গ্রেপ্তার করে এই সরকার ১৫ বছর কাটিয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এসবের মধ্যে একটি ঘটনা চোখে পড়েছে, অবিশ্বাস্য। যেটা হলো লাখ লাখ মানুষ, ছেলে, মেয়ে, শিশু, বৃদ্ধ সবাই রাস্তায় নেমে বুক পেতে দিয়ে বলেছে, গুলি কর আমরা রাস্তা ছেড়ে যাব না। আপনাদের রংপুরের সাঈদের কথা মনে আছে, মুগ্ধর কথা মনে আছে নিশ্চয়। এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারের পুলিশ তাদের গুলি করে মারল। যেভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে আমাদের সাধারণ মানুষজনের ওপরে সেটা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। তাই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে হাসিনা।

পরে আন্দোলনে নিহত চার নেতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুল।  

হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব বিএনপির : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পিতভাবে দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর ও তাদের বাড়িঘরে হামলা করছে। এ অবস্থায় এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের জান-মালের রক্ষায় দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের নিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহীদ সরণিতে (সিএসডি মোড়) বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এখন আপনাদের কঠিন সময়। এই বিপ্লবকে যদি উন্নীত করতে না পারি তাহলে আবার অন্ধকারে তলিয়ে যেতে হবে। তাই দয়া করে কাউকে কোনো রকম উচ্ছৃঙ্খলতা, কারও ওপর হামলা, আক্রমণ এসব করতে দেবেন না। এমন কোনো কথা বলবেন না যে কথাটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। এ অবস্থায় তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সে ভাষণে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন হিংসা নয়, প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়, আমরা সবাই ভাইয়ের মতো। আমরা শান্তিময় দেশ গড়ে তুলব।

এদিকে বুধবার রংপুরের পীরগঞ্জে আবু সাঈদের বাড়িতে যাবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। যুবদলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান আনিছ জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বুধবার সকাল ১১টায় পীরগঞ্জে পৌঁছাবেন। এ সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ১৬ জুলাই বেরোবির শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের বাড়ি বাবনপুরে যাবেন। সেখানে তিনি আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি স্থানীয় জাফরপাড়া দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা মাঠে এক পথ সভায় মিলিত হবেন।