কার্যালয়ে আসেন না চেয়ারম্যান-মেয়র, ভোগান্তি চরমে

দুপুর পৌনে দুইটা। চেয়ারম্যান কক্ষে ঝুলছে তালা। পরিষদের বারান্দায় বসে আছেন গুটিকয়েক মেম্বার, গ্রামপুলিশ ও জনগণ। সুনসান নীরবতা। অলস সময় কাটাচ্ছেন সচিবও। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) এমন দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীরা জানালেন সপ্তাহ খানেক ধরে এমন অবস্থা চলছে।

গত মঙ্গলবার সকালেও সরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও এই পরিষদ চত্বরে থাকত উপচে পড়া ভিড়। আর কাজে ব্যতিব্যস্ত সংশ্লিষ্টরা। এদিন পরিষদে সেবা নিতে আসা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের গৃহিনী সুরাইয়া পারভীন জানান, তিনি ব্যবসায়ীক ট্রেড লাইসেন্সের জন্য গেল তিন দিন ধরে পরিষদে ঘুরছেন। কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন।

পরিষদের সচিব মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগের পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন চেয়ারম্যান। পরিষদে আসেন না। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে পরিষদের কার্যক্রম। অনেকেই এসে ফিরে যাচ্ছেন।

মুঠোফোনে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকার পদত্যাগের পরপরই বিরোধী দলের লোকজন বিভিন্নস্থানে ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা পরিষদেও এসেছিল। সেজন্য আপাতত পরিষদে যাচ্ছি না। পরিবেশ শান্ত হলে পরিষদে ফিরব।

এ বিষয়ে কুমারখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওয়াহিদুর রহমান জানান, মেয়র না থাকায় কার্যক্রমের ছন্দপতন হয়েছে। সকলেরই ভোগান্তি হচ্ছে। মেয়রকে কার্যালয়ে ফিরে আনতে চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদীন দ্বীপ সাবেক আওয়ামী লীগের এক এমপির ভাই। কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা। তারা ৫ আগস্টের পর থেকে আর কার্যালয়ের আসেন না। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনগণ।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র এস এম রফিক ফোনে জানান, বিরোধীদলের লোকজন মেয়র, প্যানেল মেয়রসহ বিভিন্ন বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট করছে। পৌর কার্যালয়ে গিয়েও হুমকি দিচ্ছে। সেজন্য ভয়ে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

সদকী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সুকুমার বিশ্বাস জানান, চেয়ারম্যান কার্যালয়ে আসেন না। লোকজনের উপস্থিতিও কম। প্যানেল চেয়ারম্যান দিয়ে কোনোমতে চলছে পরিষদ।

কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জানান, চারিদিকের পরিস্থিতি ভালো না। পরিবেশ ভালো হলে পরিষদে যাবেন তিনি।

ফোনে পাওয়া যায়নি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানকে। তবে তার সিএ রাজু আহমেদ জানান, চেয়ারম্যান স্যার অসুস্থজনিত কারণে ১৭ জুলাই থেকেই ঢাকায় ছিলেন। আর ফিরে আসেননি। কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও দিয়ে যাননি। ভাইস চেয়ারম্যানরাও আসেন না কার্যালয়ে।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. শাতিল মাহমুদ বলেন, হামলা, ভাঙচুর, চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এগুলো করছে তারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। এর দায় নেবে না বিএনপি।

জনপ্রতিনিধিরা কার্যালয়ে না আসায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি জানান, আইন শৃঙ্খলার কিছুটা অবনতি হয়েছিল। এখন পুলিশ কাজে ফিরেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, আনসার বাহিনীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্নস্থানে টহল দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। আত্মগোপনে থাকা জনপ্রতিনিধিদের কার্যালয়ে ফেরাতে যোগাযোগ চলছে।