কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়ার এমন একটি সেতু ধ্বংস করেছে ইউক্রেন। শুক্রবার রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলের গ্লুশকোভো গ্রামের কাছে সেইম নদীর ওপরে থাকা সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কুর্স্ক অঞ্চলের সেইম নদীর সেতু ধ্বংস করতে ইউক্রেন পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র, সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এইচআইএমএআরএস (হাইমরাস) ব্যবহার করেছে।
এই হামলায় বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকা বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন বলে রাশিয়া জানিয়েছে।
শুক্রবার রাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রাম অ্যাপে বলেছেন, ‘প্রথমবারের মতো কুর্স্ক অঞ্চলে পশ্চিমের তৈরি করা রকেট আঘাত হানল। সম্ভবত আমেরিকান এইচআইএমএআরএস। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্লুুশকোভো শহরের কাছে অভিযানের ফলে স্থানীয় জেলার কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রুশ সেনা মোতায়েন ও রসদ পাঠাতে ক্রেমলিন ওই সেতু ব্যবহার করে আসছিল, এটি ধ্বংস হওয়ায় সেই কাজ ব্যাহত হতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তাদের সেনারা কুর্স্কে অবস্থান শক্তিশালী করছে। দখল করা অঞ্চলগুলোকে ‘বিনিময় তহবিল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে ইউক্রেনে মস্কোর দখল করা অঞ্চল বিনিময় করা যেতে পারে।
রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের বাহিনী অনুপ্রবেশ করে যে অভিযান চালাচ্ছে তা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়াল। কুর্স্ক অঞ্চলে সামরিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক এক কমান্ডার। অন্যদিকে রাশিয়াও জানিয়েছে, অঞ্চলটি থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান আলেকজান্দ্রার সুরস্কি বলেছেন, কিয়েভের বাহিনী রাশিয়ায় অনুপ্রবেশ শুরু করার পর থেকে ১১ দিনের মাথায় কুর্স্ক অঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের মতো এগিয়ে গেছে। কিয়েভ দাবি করেছে, ৬ আগস্ট থেকে তাদের সেনারা কুর্স্ক অঞ্চলের ১ হাজার ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ৮২টি বসতি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।