‘পুলিশ ভেরিফিকেশন পেতে আর্থিক, মানসিক ভোগান্তি’

হাইকোর্টের এক বিচারপতির বাসায় গিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের (পরিচয়-ঠিকানা যাচাই) নামে উৎকোচ দাবির মামলায় এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সাদেকুল ইসলামকে বিচারিক আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদ- বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়টি গতকাল শনিবার প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, ‘নাগরিকদের পাসপোর্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয়। এই পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পেতে নাগরিকদের যথেষ্ট আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তি হরহামেশাই পোহাতে হচ্ছে। এই মামলাটি তার একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত।’

গত বছরের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক বেঞ্চ এ রায় দেয়। গত ১১ জুলাই ২৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট সাদেকুল ইসলাম হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের দুই কন্যার পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য ধানম-ির বাসায় যান। সেখানে নিজেকে পুলিশের এসআই সালাম হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বিচারপতির স্ত্রী ডা. সাবরিনার কাছে দুজনের ভেরিফিকেশনের জন্য ২ হাজার টাকা দাবি করেন এবং এ টাকা না দিলে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে না বলে জানিয়ে দেন। ডা. সাবরিনা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে অবস্থানরত তার স্বামীকে অবহিত করলে তিনি সাদেকুলকে বাসা ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন। প্রকৃতপক্ষে এ ভেরিফিকেশনের কাজটি সাদেকুলের ছিল না।

এ ঘটনায় উচ্চ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত আদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা সাদেকুলের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ ওই বছরের ৩১ আগস্ট মামলা করেন। তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন সাদেকুলের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরের বছর ৮ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় বিচারিক আদালত। ২০১৯ সালের ২১ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এক রায়ে আসামি সাদেকুলকে দন্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের পৃথক দুটি ধারায় এক বছর করে দুই বছর কারাদন্ডাদেশ দেয়। উভয় ধারায় দেওয়া বিনাশ্রম কারাদন্ড পৃথকভাবে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। একই বছর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন সাদেকুল। শুনানি নিয়ে সাদেকুলের সাজা বহাল রেখে এ রায় হয়।

হাইকোর্ট সাদেকুলের আপিল নামঞ্জুর করে বলে, বিচারিক আদালতের রায় সঠিক ও ন্যায়ানুগ হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। আদালতে সাদেকুলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. তয়েদ উদ্দিন খান। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এস এম কামাল আমরোহী চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর উস সাদিক চৌধুরী।