তাপপ্রবাহে স্বাস্থ্যঝুঁকির নেপথ্যে আর্থসামাজিক অবস্থা!

ইউরোপের দেশ স্পেনে টানা ২১ দিন ধরে চলছিল তাপপ্রবাহ। তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছিল দেশটির মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং জারাগোজা। গবেষকরা বলছেন, এমন তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তবে শুধু উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়াদিও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারে।

মাদ্রিদের কার্লোস ৩ হেলথ ইনস্টিটিউটের গবেষক জুলিও ডিয়াজের মতে, মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধুমাত্র উচ্চ তাপমাত্রাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব বোঝা যেতে পারে মানুষের আয়, বয়স, সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গরমের সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করছে তার ওপর।

গবেষণায় স্পেনে তাপপ্রবাহের প্রভাব ব্যাখ্যা করেন এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘আমরা স্পেনকে ১৮২টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখেছি তাপমাত্রা কত ডিগ্রি হলে মানুষ মারা যায়। আমরা দেখলাম, সেভিইয়েতে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রাকে তাপপ্রবাহ বলা যাচ্ছে না আবার উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় কোরুনাতে ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রাই তাপপ্রবাহ। তিনি জানান, তাপপ্রবাহের সময়ে তিন ভাগ মানুষ হিটস্ট্রোকে মারা যান। তাপমাত্রা শরীরের অন্যান্য রোগকে প্রভাবিত করে যার ফলে মানুষের মৃত্যু হয়।

এই গবেষক আরও জানান, তাপপ্রবাহের প্রথম ধাপে দ্বিতীয় ধাপের তুলনায় বেশি মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকে। কারণ প্রথম ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়া দ্বিতীয় ধাপে এই সংখ্যা কমে আসে। তৃতীয় ধাপে তা আরও কমে আসে। আর এ কারণে তাপপ্রবাহের প্রথম পর্বে বেশি মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে।

মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তাপপ্রবাহের প্রভাব বিশ্লেষণ করে এর সঙ্গে আর্থসামাজিক সম্পর্কের বিষয়টিও দেখতে পান এই গবেষক। তিনি জানান, দরিদ্র এলাকাগুলোতে তাপমাত্রার বৃদ্ধির প্রভাব বেশি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তিনজনের একটি রুমে যেখানে মাত্র একটি জানালা রয়েছে এবং কোনো এয়ার কন্ডিশন বা ফ্যান নেই সেই রুমে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব যেই ভিলাতে একটি সুইমিং পুল আছে সেখানকার চেয়ে বেশি। আবার এটি শুধুমাত্র এয়ার কন্ডিশন বা ফ্যান থাকা না থাকার চেয়ে সেটি চালাতে পারার সক্ষমতার  ওপর নির্ভর করে। তাপপ্রবাহের সময়ে স্পেনে বিদ্যুতের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল।