বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি

এসআইবিএলের পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পর এবার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আবেদন জানিয়েছেন তারা।

সাবেক পরিচালকদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে একটি গোয়েন্দা সংস্থা অস্ত্রের মুখে ব্যাংকের তৎকালীন নেতৃত্বকে পদত্যাগে বাধ্য করে। এরপর ব্যাংকটিকে লুটপাটের আখড়া বানিয়েছে এবং নামে-বেনামে এস আলম গ্রুপ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ শুধু টাকা পাচার, ব্যাংক লুটপাট ও তাদের নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ব্যাংকটি দখল করেছে বলেও উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. রেজাউল হক, উদ্যোক্তা ও এক্সিকিউটিভ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিসুল হক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ চিঠি দিয়েছেন।

তাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকটি ১৯৯৫ সাল প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। মাত্র ২২ বছরে ব্যাংকটি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০১৭ সালে ব্যাংকের ওপর শকুনের থাবা বিস্তৃত হতে থাকে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়মিত ৪০৪তম সভা ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল ব্যাংকের মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডরুমে। সেদিন তৎকালীন সরকারের একটি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এস আলম এবং তাদের সহযোগীরা ওই সময়ে তখনকার পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই বাহিনীর কার্যালয়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের ছত্রছায়ায় এস আলম গ্রুপ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার বেআইনিভাবে অর্থাৎ ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪ (ক) ধারা সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে ব্যাংকের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, যা ব্যাংকের বর্তমান শেয়ারহোল্ডিং পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একসময় গ্রাহকের আস্থাভাজন এবং আইনের সুশাসন দ্বারা পরিচালিত হলেও পরবর্তীকালে এস আলম গ্রুপের সীমাহীন দুর্নীতি ও নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের কারণে ব্যাংকটি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলেও বিশেষ কায়দায় এখনো ব্যাংকের টাকা এস আলম ও তার বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে ও বেনামে উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে, যা দ্রুত বন্ধ করা দরকার। অন্যথায় গ্রাহকের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গং কর্তৃক দখলের সময় ব্যাংকটির বিরতণকৃত ঋণ ছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, নতুন ১৫ হাজার কোটি টাকার সিংহভাগ নামে-বেনামে এস আলম গং তুলে নিয়েছে। এস আলম গ্রুপের সীমাহীন দুর্নীতির ফলে ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ফলে বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের সন্দেহ, যদি ব্যাংকটি এস আলম মুক্ত না হয় তাহলে তাদের আমানত ফেরত পাবে না। তাই এখন প্রায় সব শাখার গ্রাহকরা ব্যাপক হারে তাদের আমানত তুলে নিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে উদ্যোক্তা ও প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আবেদন জানান সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা। একই সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সব দুর্নীতি, অনিয়ম ও বেনামি ঋণ প্রদান থেকে বিরত রাখার জন্য তাদের দ্রুত অপসারণও চেয়েছেন তারা।